সিলেটের হাউজিং এস্টেট এলাকায় ছিনতাইয়ের ঘটনার যে সিসিটিভি ফুটেজ অনলাইনে ছড়িয়ে পড়েছে, সেই ছিনতাইয়ের শিকার নারী সিলেট কর অঞ্চলের কর পরিদর্শক। তার নাম ইয়াছমিন আক্তার। তিনি নগরীর হাউজিং এস্টেট এলাকার এনজেএল হাউজের বাসিন্দা। তার স্বামীও একজন কর পরিদর্শক। তিনি কর অঞ্চল ময়মনসিংহে কর্মরত রয়েছেন।
অন্যদিকে, একটি সুরক্ষিত এলাকায় দিনদুপুরে নারী কর পরিদর্শকের টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় তোলপাড় চলছে। জনমনে আতঙ্কও বিরাজ করছে। এ ঘটনায় পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি।
এয়ারপোর্ট থানার ওসি শাহ মো: মুবাশ্বির জানিয়েছেন, পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সাথে দেখছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে প্রকাশ্যে নিজ বাসার সামনে এই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। ছিনতাইকারীরা টাকা নিলেও আইফোনও এটিএম কার্ড একটি রেস্টুরেন্ট এর সামনে রেখে গেছে।
অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, হাউজিং এস্টেটের ভেতরের সড়ক দিয়ে একটি অটোরিকশা যাচ্ছিলো। তিনটি মোটর সাইকেলে এসে ৬ জন লোক ওই অটোরিকশার গতিরোধ করে। এরপর একজন মোটরসাইকেল থেকে নেমে অটিরিকশার ভেতরে থাকা ব্যাগ ধরে টানাটানি করে। কিছুক্ষণ টানাহ্যাঁচড়ার পর ব্যাগটি নিজের আয়ত্বে নিয়ে মোটর সাইকেল আরোহীরা চলে যায়। এসময় অটোরিকশা থেকে নেমে এক নারীকে চিৎকার করতে দেখা যায়।
এয়ারপোর্ট থানায় এ ঘটনায় দায়ের করা ইয়াছমিন আক্তারের ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, কর পরিদর্শক ইয়াছমিন আক্তার অফিস থেকে সিএনজি অটোরিকশা যোগে বাসায় ফিরছিলেন। এতে উল্লেখ করা হয়, ৬ জন ছিনতাইকারী সিএনজি অটোরিকশা থামিয়ে পিস্তল ঠেকিয়ে ভ্যানিটি ব্যাগ নিয়ে যায়। যাতে ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার মধ্যে ছিলো। ছিনতাইকারীরা টাকা ও স্বাক্ষর করা চেক বইয়ের কয়েকটি পাতা নিয়ে যায়। তবে, আইফোন ও এটিএম কার্ড তারা পার্শ্ববর্তী জান্নাত রেস্টুরেন্ট এর সামনে রেখে যায়।
ইয়াছমিন আক্তার দাবি করেন, ঘটনার পর থেকে তার পরিবার আতঙ্কে রয়েছেন। তার স্বামী ময়মনসিংহ কর অঞ্চলে কর পরিদর্শক হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এ ঘটনায় প্রতিকার চেয়েছেন তিনি।
এ ব্যাপারে নগরীর ৪ নং ওয়ার্ডের সাবেক সিটি কাউন্সিলর ও সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনা শোনার পরপরই সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আমি পুলিশকে দিয়েছি।
ছিনতাইকারীদের দ্রুত গ্রেফতারে পুুলিশ কমিশনারের সাথেও কথা হয়েছে। বিষয়টি আমরা খুব গুরুত্বের সাথে দেখছি।
তিনি বলেন, ঘটনা শুনে মনে হয়েছে এই ছিনতাইয়ের শিকার ওই নারীর পরিচিত কেউ বা ব্যাংকের কেউ জড়িত থাকতে পারে। কারণ সিলেটে মানুষজন প্রতিদিনই টাকা নিয়ে ব্যাংকে যাওয়া- আসা করে। এরকম ছিনতাইয়ের ঘটনা সাধারণত ঘটে না।
এ ব্যাপারে এয়ারপোর্ট থ্নাার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ মো. মোবাশ্বির বলেন, ছিনতাইয়ের ঘটনায় আমরা অভিযোগ পেয়েছি। সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। ছিনতাইকারীদের ধরতে আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি।
এই নিউজ ৩১০ বার পড়া হয়েছে