ফেঞ্চুগঞ্জ প্রতিনিধি
সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে প্রেমের টানে ধর্ম পরিবর্তন করে বিয়ে করা এক নওমুসলিম গৃহবধূর ওপর গুরুতর নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। বিয়ের আগে যে প্রেমিক ছিলেন যত্নশীল ও সহানুভূতিশীল, বিয়ের পর তার আচরণ সম্পূর্ণ পাল্টে যায় বলে জানিয়েছেন ভুক্তভোগী।
ভুক্তভোগী আয়েশা সিদ্দিকা জানান, মুসলিম যুবক রাহেল আহমেদের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্কের কারণে তিনি স্বেচ্ছায় ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন এবং পরে বিয়ে করেন। তবে বিয়ের পর থেকেই শুরু হয় যৌতুকের টাকার জন্য শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন।
কখনো সিএনজিচালিত অটোরিকশা কেনা, কখনো ডিএসএলআর ক্যামেরার জন্য টাকার চাপ দেওয়া হতো। একাধিকবার টাকা এনে দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি। শেষ পর্যন্ত আট মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় তাকে মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার ঘিলাছড়া ইউনিয়নের যুধিষ্ঠিপুর গ্রামে। অভিযুক্ত রাহেল আহমেদ ওই গ্রামের হামিদুর রহমান লুলুর ছেলে।
এ ঘটনায় ভুক্তভোগী আদালতে অভিযোগ দায়ের করেছেন। মামলায় স্বামী রাহেল আহমেদসহ তার মা ও বোনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
বর্তমানে আয়েশা সিদ্দিকা স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু বশর মিয়ার আশ্রয়ে রয়েছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজের নিরাপত্তা ও চিকিৎসা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত রাহেল আহমেদ দাবি করেছেন, দুই মাস আগেই তিনি তালাক দিয়েছেন। তবে ইউপি সদস্য আবু বশর মিয়া এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, কোনো তালাক হয়নি।
এ বিষয়ে ফেঞ্চুগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল কবিরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এই নিউজ ৪২১ বার পড়া হয়েছে