৪ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২১শে মাঘ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৬ই শাবান, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটে প্রথম আইভিএফ সেন্টারের যাত্রা শুরু, নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য নতুন দিগন্ত

প্রকাশিত জানুয়ারি ২৫, ২০২৬, ১১:২৪ পূর্বাহ্ণ
সিলেটে প্রথম আইভিএফ সেন্টারের যাত্রা শুরু, নিঃসন্তান দম্পতিদের জন্য নতুন দিগন্ত

সিলেট জেলায় নিঃসন্তান দম্পতিদের অত্যাধুনিক ও উন্নত চিকিৎসা সেবা প্রদানের লক্ষ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করেছে ‘সিলেট ইনফার্টিলিটি কেয়ার অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার’।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) নগরীর সুবহানীঘাটস্থ উপকণ্ঠ আবাসিক এলাকায় অবস্থিত সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আইভিএফ (IVF) সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।

সিলেটের ২১ জন বিশেষজ্ঞ গাইনোকোলজিস্টের সম্মিলিত স্বপ্নে এই সেন্টারটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এটিই সিলেটের প্রথম প্রতিষ্ঠান যেখানে আইভিএফ (IVF), আইসিএসআই (ICSI), আইইউআই (IUI) এবং এমব্রো ফ্রিজিংয়ের মতো উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে বন্ধ্যাত্ব নিরাময়ে কাজ করা হবে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি থেকে নিঃসন্তান মহিলারা এখানে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সিলেট মা ও শিশু হাসপাতালের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং প্রখ্যাত শিশু রোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. তারেক আজাদ বলেন, “অনেকেই সন্তান জন্ম দিতে না পারায় পরিবারে চরম অশান্তি ও নিগ্রহের শিকার হন। সেই ব্যথা থেকেই আমরা সাধারণ গাইনি চিকিৎসার পাশাপাশি ইনফার্টিলিটি নিয়ে কাজ করার উদ্যোগ নিয়েছি। এখানে আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে কম খরচে টেস্ট টিউব পদ্ধতিতে মাতৃত্বের স্বাদ পাবেন নিঃসন্তান মায়েরা।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. জিয়াউর রহমান বলেন, “সিলেটে এই প্রথম আইভিএফ কার্যক্রম চালু হওয়া একটি মহৎ কাজ। এখানে ল্যাবে কৃত্রিম নিষিক্তকরণ (IVF), সরাসরি শুক্রাণু ডিম্বাণুর ভেতরে প্রবেশ (ICSI) এবং জরায়ুর ভেতরে শুক্রাণু স্থাপন (IUI) সহ আধুনিক সব ব্যবস্থা রয়েছে।”

বিশেষজ্ঞদের মতে, আইভিএফ-এর ক্ষেত্রে বয়স একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সাফল্যের হার সাধারণত নিম্নরূপ:

৩৫ বছরের নিচে: সাফল্যের হার সবচেয়ে বেশি (প্রায় ৪০%-৫০%)।

৩৫ থেকে ৩৭ বছর: সাফল্যের হার প্রায় ৩৫%-৪০%।

৩৮ থেকে ৪০ বছর: সাফল্যের হার প্রায় ২০%-২৫%।

৪০ বছরের উপরে: সাফল্যের হার সাধারণত ১০%-১৫%।

একটি সাধারণ আইভিএফ চক্রের (IVF Cycle) খরচ সাধারণত ৩,৫০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০ টাকার মধ্যে হবে বলে জানানো হয়েছে।

এই সেন্টারের সার্বিক সহায়তায় রয়েছেন বিশিষ্ট গাইনি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. নমিতা রানী সিনহা সহ একঝাঁক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক। ডা. নমিতা রানী সিনহা জানান, জরায়ুর অ্যাডোনোমাইসিস রোগের অ-অস্ত্রোপচার (Non-surgical) চিকিৎসার জন্য এটি একটি হাইপো সেন্টার হিসেবেও কাজ করবে।

ডা. হিমাংশু দাস সৌম্যের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন ডা. নাতিয়া রাহনুমা, ডা. নুজহাত শারমিন উর্মি, ডা. দ্বীপান্নিতা ঘোপ, ডা. শামীমা আক্তার শিপা এবং রেবেকা সুলতানা নিশু প্রমুখ।

এই নিউজ ৩৬৭ বার পড়া হয়েছে