রেজওয়ান আহমদ: সিলেটকে বলা হয় পর্যটন নগরী তার কারণ আছে, সিলেটের চারিদিকে রয়েছে পর্যটন স্পট। এই স্পট গুলোর মধ্যে রয়েছে জাফলং, সাদা পাথর, লালা খাল, বিছনাকান্দি, মাধবপুর ঝরনা, শ্রীমঙ্গল চা বাগান, টাঙ্গুয়ার হাওর, হাকালকি হাওর সহ বিভিন্ন স্থাপনা রয়েছে। এই পর্যটন স্পট গুলো দেখতে দেশ ও বিদেশ থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন সিলেটে।
বিশেষ করে শীত মৌসুমে এই স্পটগুলোতে পর্যটকদের ভিড় থাকে বেশি, পর্যটকদের পথচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে এই স্পটগুলো। এই পর্যটন স্পট গুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে জৈন্তাপুর উপজেলা লালাখাল। এই পর্যটন এলাকায় পর্যটকদের আকর্ষণ করে নীল নদী নামে পরিচিত সারীনদী, তার কারণ হচ্ছে এই নদীর একপাশের পানি নীল আর অন্যপাশের পানি সাদা। নদী কিন্তু একটি এই দৃশ্য দেখার জন্য দেশ ও বিদেশের বিভিন্ন স্থান থেকে পর্যটকরা ছুটে আসেন লালাকাল পর্যটন এরিয়ায়।
১৪ ফেব্রুয়ারি শনিবার সকাল ১১ টায় মোবাইল ফোন বেজে উঠে ফোন রিসিভ করার পর অপর প্রান্ত থেকে এলাকার ছোট ভাই আরিফ বলে আমরা কয়েক জন লালাখাল পর্যটন এলাকায় পিকনিক করতে যাব আপনিও আমাদের সাথে যাবেন। সেই ছোটবেলা থেকেই একসাথে খেলাধুলা করেছি তাই আর না করতে পারিনি, তার মধ্যে আবার ছোটবেলার বন্ধু নজরুল প্রবাস থেকে দেশে এসেছে সেও আমাদের সাথে যাবে তাই হা বলে দেই। ১৬ তারিখ সকাল ৮ টায় ঘুম থেকে উঠে রেডি হয়ে দশটার সময় ইলেকট্রিক সাপ্লাই এলাকায় আরিফের বাসায় চলে যাই।
এরই মধ্যে এক এক করে সবাই চলে আসে, সকালে ১১ টায় নজরুল ইসলাম, রেজওয়ান আহমদ, সোহেল ইসলাম, মোঃ আরিফ আহমেদ, মোঃ ইউসুফ আলী, মোঃ রুবেল আহমদ, ইবরাহিম হোসেন, আবু সুফিয়ান ও হাব্বান গাড়িতে উঠে বসি। চালক জৈন্তাপুর উপজেলা লালাখাল পর্যটন স্পটের উদ্দেশ্যে গাড়ি ছাড়লেন, শুরু হলো যাত্রা। সড়কের দুই পাশের অপরূপ দৃশ্য দেখতে দেখতে প্রায় দেড় ঘন্টা পর লালাখাল এলাকায় গিয়ে গাড়ি তামালেন চালক। গাড়ি থেকে নামার পর চোখে পড়ল নীল পানি দেখতে অপরূপ সুন্দর, সবাই হেটে গিয়ে নদীর পারে গেলাম সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছে নৌকা। কারণ এই নৌকাগুলো দিয়ে পর্যটকরা লালাকাল পর্যটন স্পটে যেতে হয়।
আমরা একটি নৌকার মাঝির সাথে কথা বলি তিনি বলেন, পর্যটন স্পটে যেতে হলে নৌকা ভাড়া ১১০০ টাকা দিতে হবে। আমরা রাজি হলাম এক এক করে সবাই নৌকাতে উঠে বসি, নদীর নীল পানির উপর দিয়ে নৌকা ছাড়লেন মাঝি। নৌকা চলছে আর মনটা আনন্দে ভরে উঠছে কারণ নীল পানির দৃশ্য দেখতে খুব সুন্দর লাগছে। আমি এই প্রথম লালা খাল পর্যটন স্পটে এসেছি, প্রায় ২০ মিনিট পর নৌকা গিয়ে থামলো নৌকা থেকে নেমে অবাক হয়ে গেলাম নদীর পানি দেখে কারণ আমরা যে স্থান থেকে নৌকায় উঠেছি সেই স্থান থেকে পানি ছিল নীল আর ওই জায়গায় গিয়ে দেখি পানি সাদা অথচ নদী কিন্তু এক। কিছু সময় ঘুরাঘুরি করে খেলার জন্য মাঠ খোজতে থাকি, কিছু সময় হাটার পর লালাখাল চা বাগান এরিয়ায় গিয়ে ঢুকে পড়ে। বাগানের ভিতর একটি মাঠ খুঁজে পাই, তারপর শুরু হলো খেলা প্রথমেই দৌড় প্রতিযোগিতা, এরপর এক এক করে বল রাখা, বেলুন দৌড়, ক্রস ওয়াক, বিতরে বাহিরে, মার্কার ক্লোজ, আওয়াজ খোজা, কাপ হোল্ড রান, পেনাল্টি শট খেলা।
এক একটি খেলা হচ্ছে আর প্রতিযোগিদের মধ্যে আনন্দ ছড়িয়ে পড়ছে এভাবেই আটটি প্রতিযোগিতা সম্পূর্ণ হয়। যারা খেলায় অংশগ্রহণ করে বিজয়ী হয় তাদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়, এরই মধ্যে বিকেল চারটা বাজে ঘড়িতে। নৌকার মাঝি এসে তাড়াদেয় চলে আসার জন্য, সবাই নৌকার মাঝির কথা শুনে নৌকায় উঠে বসি মাঝি ছাড়লেন নৌকা। কিছু সময় পর নৌকা ঘাটে এসে নৌকা থামালেন মাঝি।
সবাই নৌকা থেকে নেমে হেঁটে গিয়ে গাড়িতে উঠে, চালক ছাড়লেন গাড়ি লালাখাল থেকে হরিপুর বাজারে গিয়ে গাড়ি থামালেন চালক। গাড়ি থেকে নেমে গিয়ে সবাই হোটেলে চলে যাই খাবার খাওয়ার জন্য। এরই মধ্যে সন্ধ্যা হয়ে গেল, খাবার শেষ করে সবাই গাড়িতে উঠে বসি গাড়ি চলছে আর সবাই মিলে আনন্দ করছে। রাত ৭:৩০ মিনিটে গাড়ি এসে থামল নিজ গন্তব্যে থামল সবার আনন্দ। সমাপ্ত হলো একটি দিনের মিলন মেলা।
এই নিউজ ৩১১ বার পড়া হয়েছে