সংরক্ষিত নারী আসনে এবারও ‘পুরাতন ও নতুনের’ সংমিশ্রণে আস্থা রেখেছে বিএনপি। বিশেষ করে সিলেট বিভাগে হেভিওয়েট একাধিক প্রার্থীকে টপকিয়ে শেষ পর্যন্ত মনোনয়ন দৌড়ে জয়ী হয়েছেন সাবেক সংসদ সদস্য শাম্মী আক্তার এবং নতুন মুখ ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী।
সোমবার (২০ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর নয়া পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ৩৬ জন মনোনীত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন।
মনোনয়নপ্রাপ্তদের তালিকায় সিলেট বিভাগ থেকে স্থান পেয়েছেন বিএনপি কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকার বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও সাবেক এমপি শাম্মী আক্তার। দলীয় সূত্রে জানা যায়, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি হবিগঞ্জ-৪ (মাধবপুর–চুনারুঘাট) আসন থেকে দলীয় মনোনয়ন চাইলেও পাননি। তবে দলের সংকটে রাজপথে সক্রিয় ভূমিকা রাখায় পুনরায় তাঁর ওপর আস্থা রেখেছে হাইকমান্ড।
অন্যদিকে, সিলেট থেকে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছেন ব্যারিস্টার জহরত আদিব চৌধুরী। তিনি বিএনপির প্রয়াত প্রবীণ নেতা ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী অ্যাডভোকেট এবাদুর রহমান চৌধুরীর মেয়ে। নতুন মুখ হিসেবে ব্যারিস্টার জহরতের মনোনয়ন প্রাপ্তি দলের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।
রিজভী জানান, সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন চূড়ান্ত করতে জাতীয় কমিটির সদস্যরা দুই দিনব্যাপী প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছেন। দীর্ঘ যাচাই-বাছাই শেষে সোমবার সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, নিপুণ রায় চৌধুরীসহ মোট ৩৬ জনের নাম ঘোষণা করা হয়।
সিলেট বিভাগ থেকে এবার মনোনয়ন লড়াই ছিল বেশ তীব্র। শাম্মী আক্তার ও জহরত আদিব চৌধুরী ছাড়াও মনোনয়ন সংগ্রহ করেছিলেন নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না, মহানগর মহিলা দলের সাধারণ সম্পাদক ফাহিমা আহাদ কুমকুম, হারিছ চৌধুরীর মেয়ে ব্যারিস্টার সামিরা তানজিন চৌধুরী, প্রয়াত লেচু মিয়ার মেয়ে সৈয়দা আদিবা হোসেন, প্রয়াত কমর উদ্দিনের মেয়ে ছাবিনা খান, এবং বিথীকা বিনতে হোসাইনসহ আরও বেশ কয়েকজন নেত্রী।
শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞ শাম্মী আক্তার এবং নবীন জহরত আদিব চৌধুরীকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে বিএনপি সিলেটে অভিজ্ঞ ও মেধাবী নেতৃত্বের সমন্বয় ঘটালো বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
এই নিউজ ৩০৩ বার পড়া হয়েছে