৫ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২২শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ১৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সেগুপ্তা কানিজ আক্তার’র ভূমিকা অনবদ্য ছিল: সাখাওয়াত এরশেদ

প্রকাশিত এপ্রিল ৩০, ২০২৬, ০১:৫৮ অপরাহ্ণ
শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সেগুপ্তা কানিজ আক্তার’র ভূমিকা অনবদ্য ছিল: সাখাওয়াত এরশেদ

সিলেট জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার সাখাওয়াত এরশেদ বলেছেন, আজকের দিনটি আমাদের জন্য অত্যন্ত ভারাক্রান্ত মনের। আজ আমরা এমন একজন মানুষকে বিদায় জানাতে সমবেত হয়েছি, যিনি এই বিদ্যালয়টিকে শুধু একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে নয়, বরং একটি পরিবার হিসেবে গড়ে তুলেছিলেন। আমাদের পরম শ্রদ্ধেয় প্রধান শিক্ষক সেগুপ্তা কানিজ আক্তার আজ পেশাগত জীবনের এক রঙিন অধ্যায় শেষ করে অবসরে যাচ্ছেন। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশে সেগুপ্তা কানিজ আক্তার এর ভূমিকা অনবদ্য ছিল। তিনি কেবল একজন দক্ষ শিক্ষক ছিলেন না, ছিলেন শিক্ষার্থীদের জন্য মমতাময়ী মা এবং সহকর্মীদের জন্য একজন পথপ্রদর্শক।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) নগরীর বন্দরবাজারস্থ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকবৃন্দের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত সিলেট সদর উপজেলার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাকুমার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেগুপ্তা কানিজ আক্তারের অবসরজনিত বিদায় সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপরোক্ত কথাগুলো বলেন।

সংবর্ধিত অতিথির বক্তব্যে সেগুপ্তা কানিজ আক্তার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতিচারণ করে বলেন, আজ আমার জন্য এক মিশ্র অনুভূতির দিন। দীর্ঘ এক কর্মজীবনের পথচলা শেষে আজ আমি আপনাদের কাছ থেকে বিদায় নিচ্ছি। এই বিদায় শুধু একটি কর্মস্থল থেকে নয়, বরং আমার জীবনের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ থেকে বিদায়। তিনি আরো বলেন, বিদ্যালয়ের আঙিনাকে সুন্দর ও মনোরম রাখার জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে চেষ্টা করেছি, কারণ আমি বিশ্বাস করি সুন্দর পরিবেশ মনের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষার আগ্রহ বাড়িয়ে দেয়। আজ পেছনে ফিরে তাকালে যখন দেখি আমাদের শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন ক্ষেত্রে সফল হচ্ছে এবং এই প্রাঙ্গণটি ফুলে-ফলে সুশোভিত হয়ে আছে, তখন মন এক অদ্ভুত তৃপ্তিতে ভরে ওঠে। আপনাদের সহযোগিতা ছাড়া আমার এই দীর্ঘ পথচলা কখনোই সম্ভব হতো না। আমরা একটি পরিবারের মতো কাজ করেছি। আমার কাজে কখনো কোনো ভুল হয়ে থাকলে তা ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। সবশেষে, এই বিদ্যাপীঠের উত্তরোত্তর সমৃদ্ধি ও সাফল্য কামনা করছি। আমি শারীরিকভাবে বিদায় নিলেও আমার মন ও দোয়া সবসময় এই বিদ্যালয়ের সাথেই থাকবে।

উপজেলা প্রাথমিক সহকারী শিক্ষা অফিসার কাজী মো: জাফর এর সভাপতিত্বে ও বিদ্যালয়ের সহকারি শিক্ষক মৌসুমী মহারত্ন এর পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার নজরুল ইসলাম, সহকারী জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রুহুল আমিন, উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার শরীফ মো: নিয়ামত উল্লাহ, ইউ আর সি ইনস্ট্রাক্টর আনিসুজ্জামান ভূইয়া, সহকারী উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা সায়মা সুলতানা, সানাউল হক সানি।

অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, অত্র বিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক সামসুননূর, শুক্লা দাস, সুপ্রীতি চৌধুরী, লক্ষী রানী পাল, বর্তমান সহকারি শিক্ষক মৌসুমী মহারত্ন, শিপ্রা রানী নাথ, লাকী রানী দে, রীতা রানী তালুকদার, স্বর্ণালী দাস, তৃপ্তি রানী দাস, বিপ্লব মোদক, বিভা মজুমদার, সুদীপ্ত দত্ত চৌধুরী প্রমূখ।

অনুষ্ঠানে বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ, বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীবৃন্দ এবং সচেতন অভিভাবকগণ উপস্থিত ছিলেন। পরিশেষে, ফুলেল শুভেচ্ছা ও সম্মাননা স্মারক প্রদানের মাধ্যমে প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানানো হয়।

এই নিউজ ৩২০ বার পড়া হয়েছে