গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার ওপর সশস্ত্র হামলার মামলায় আসামি হওয়া সত্ত্বেও বহাল তবিয়তে রয়েছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) ১৬ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আব্দুল মুহিত জাবেদের ওয়ার্ড সচিব ও ১৬ নম্বর ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি শেখ নাসির।
আইনপ্রয়োগকারী সংস্থাকে এড়াতে প্রকাশ্য কার্যালয় বন্ধ রেখে তিনি গোপনে কার্যক্রমে সম্পৃক্ত থাকলেও, জন্মনিবন্ধনসহ অন্যান্য জরুরি নাগরিক সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অবিলম্বে এই সচিবকে পদ থেকে বহিষ্কারের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
১৬ নম্বর ওয়ার্ড কার্যালয়ে সেবা নিতে আসা একাধিক ভুক্তভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন জরুরি কাগজপত্র ও সেবা সংক্রান্ত কাজের প্রয়োজনে ওয়ার্ড সচিবের কার্যালয়ে গিয়ে তাকে পাওয়া যায় না। নিয়মিত দায়িত্ব পালনের বদলে তিনি আইনি গ্রেপ্তার এড়াতে কার্যালয় বন্ধ রেখে গোপন স্থানে মিটিং ও কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছেন।
ভুক্তভোগী এক স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, আমরা অতি জরুরি নাগরিক সেবার প্রয়োজনে এসে সচিবকে পাচ্ছি না। সরকারি কাজ ফেলে তিনি আত্মগোপনে থেকে গোপনে রাজনৈতিক মিটিংয়ে ব্যস্ত থাকেন। একজন আসামির কাছে সাধারণ নাগরিকরা জিম্মি হতে পারে না। তাকে অবিলম্বে এই পদ থেকে বহিষ্কার করা উচিত।
আইনি ঝামেলা এড়িয়ে গোপনে কার্যক্রম চালানোর পাশাপাশি শেখ নাসিরের বিরুদ্ধে সরকারি ও আন্তর্জাতিক তহবিলের অর্থ আত্মসাতের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে।
নিম্নআয়ের মানুষের জন্য বরাদ্দকৃত ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি)-এর ফ্যামিলি কার্ড বণ্টনে চরম রাজনৈতিক স্বজনপ্রীতি চালানের তথ্য পাওয়া গেছে। প্রকৃত হতদরিদ্রদের বাদ দিয়ে কেবল আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগ সমর্থিত পরিবারের মাঝে এসব কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে বলে জানা গেছে।
এছাড়া জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচি (ইউএনডিপি) বাংলাদেশ এবং সিডিসি প্রজেক্টের আওতায় সংগৃহীত অর্থের কিস্তি সিসিকের নিজস্ব খাতায় জমা না দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রতি ১০টি কিস্তির অর্থ সংগৃহীত হওয়ার পর সরকারি কোষাগারে জমা করার বাধ্যবাধকতা থাকলেও তিনি সেই টাকা জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
বিগত জুলাই-আগস্ট মাসে সিলেটে সংঘটিত ছাত্র-জনতার গণবিপ্লবে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর সরাসরি সশস্ত্র হামলা, সহিংসতা ও ইন্ধন জোগানোর অভিযোগে শেখ নাসিরের বিরুদ্ধে সিলেটের বিজ্ঞ আদালতে সম্প্রতি একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, শেখ নাসিরসহ অন্য আসামিরা স্বৈরাচারী শাসকের দোসর হিসেবে সিলেটে আন্দোলনকারীদের ওপর সশস্ত্র হামলায় নেতৃত্ব দেন এবং পুণ্যভূমি সিলেটকে সংঘাতময় পরিস্থিতিতে রূপান্তর করেন।
ফৌজদারি মামলার এজাহারনামীয় আসামি হওয়া সত্ত্বেও গ্রেপ্তার না হয়ে বহাল তবিয়তে থাকা এবং নাগরিক সেবা জিম্মি করে রাখার ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীদের মনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এক কর্মকর্তা জানান, গণঅভ্যুত্থানে দমন-পীড়নের অভিযোগে দায়েরকৃত মামলাটি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। আত্মগোপনে থাকা শেখ নাসিরসহ সকল আসামিকে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এই নিউজ 306 বার পড়া হয়েছে