সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার ৭নং সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নে জমি সংক্রান্ত বিরোধ ও পূর্ব শত্রুতার জেরে সৈয়দ রায়হান মিয়া (৫৫) নামের এক ব্রিটিশ প্রবাসীর ওপর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় গুরুতর আহত ওই প্রবাসী বর্তমানে সিলেট নগরীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সৈয়দপুর পশ্চিমপাড়া গ্রামের মৃত সৈয়দ ইসহাক মিয়ার ছেলে সৈয়দ রায়হান মিয়া ও তার ভাইয়েরা দীর্ঘদিন ধরে সপরিবারে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছেন। দেশে থাকা তাদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি দেখাশোনা করার জন্য প্রতিবেশী আব্দুর রাজ্জাক ও তার ভাইদের দায়িত্ব দিয়েছিলেন তারা। অভিযোগ উঠেছে, কেয়ারটেকার থাকাকালীন আসামীরা প্রবাসীর কাছ থেকে বিভিন্ন অজুহাতে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিলেও বাড়ির কোনো উন্নয়ন করেনি। প্রায় দেড় বছর আগে সৈয়দ রায়হান মিয়া দেশে ফিরে কৌশলে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে নিজেই সব দেখাশোনা শুরু করলে বিবাদীরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।
ঘটনার দিন গত ১২ এপ্রিল রবিবার বিকেলে, অভিযুক্তরা ধান কাটার ভার নিয়ে প্রবাসীর বাড়ির উঠানের ওপর দিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে তিনি বাধা দেন এবং বিকল্প রাস্তা ব্যবহারের অনুরোধ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে আব্দুর রাজ্জাক, জাকির, শাকির ও শামীমসহ আরও কয়েকজন মিলে রামদা, লোহার রড ও লাঠিসোঁটা নিয়ে তার বসতবাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে।
আহত রায়হান মিয়ার দাবি, বিবাদীদের নির্দেশে জাকির ও শাকির রামদা দিয়ে তার মাথার পেছনে কুপিয়ে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে। শামীম লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে তার ডান পায়ের হাড় ভেঙে দেয় এবং হুমাইদী বাঁশের লাঠি দিয়ে পায়ে জখম করে। হামলার একপর্যায়ে বিবাদীরা তার গলা থেকে ১ ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন এবং হাত থেকে ১২ আনা ওজনের ব্রেসলেট ছিনিয়ে নেয়, যার বাজারমূল্য প্রায় সাড়ে ৪ লক্ষ টাকা।
পরে স্থানীয় লোকজন ও সাক্ষীরা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাকে এবং তার স্ত্রীকে প্রাণে মারার হুমকি দিয়ে চলে যায়। তাকে প্রথমে জগন্নাথপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে আশঙ্কাজনক অবস্থায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সবশেষ উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিলেট নগরীর একটি প্রাইভেট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এ ঘটনায় সৈয়দ রায়হান মিয়া বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকায় মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই নিউজ 352 বার পড়া হয়েছে