৪ঠা মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৯শে ফাল্গুন, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ১৫ই রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ধোপাগুল পাথর ব্যবসায়ি সমিতির সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত সেপ্টেম্বর ২০, ২০২৫, ০৯:১৫ পূর্বাহ্ণ
ধোপাগুল পাথর ব্যবসায়ি সমিতির সংবাদ সম্মেলন

সিলেটের ধোপাগুল এলাকায় অবস্থিত শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিশিন খোলে দেয়ার দাবীতে সংবাদ সম্মেলন করেছেন সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী শ্রমিকেরা।

বিমানবন্দর থানা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির উদ্যোগে শনিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সিলেট প্রেসক্লাবে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, বিগত চার মাস ধরে সিলেটের ধোপাগুল এলাকার স্টোন ক্রাশার গুলো প্রশাসনিক উদ্যোগে বন্ধ করে দেয়া হয়। স্থানীয়ভাবে আহরিত পাথর তথা সাদাপাথর বিপননের অভিযোগে এখানকার ক্রাশার মিশিন সমূহের বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে তা অকেজো করে দেয়া হয়। এর ফলে এ অঞ্চলে পাথর সংশ্লিষ্ট হাজারো শ্রমিক ব্যবসায়ী তাদের রোজগার হারিয়ে বেকার হয়ে পড়েন।

সংবাদ সম্মেলনে আরোও উল্লেখ করা হয়, সাদাপাথর পর্যটন কেন্দ্রের পাথর সদর উপজেলার ধোপাগুল এলাকার ব্যবসায়ীরা লুটপাট করেনি। এ পাথর ওই অঞ্চলের স্থানীয় দুর্বৃত্তরা নৌকাযোগে লুটপাট করে। লুটপাটকৃত ওই পাথরের বেশিরভাগই নদীপথে দেশের বিভিন্ন স্থানে পাচার করা হয়। ধোপাগুল এলাকায় স্থানীয়ভাবে আহরিত কিছু পাথর সংরক্ষণ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, প্রশাসনের নির্দেশনা মেনে ধোপাগুলের ব্যবসায়ীরা স্ব উদ্যোগে এসব পাথর ফিরিয়ে দেন। তাছাড়া প্রশাসনিক উদ্যোগেও কিছু পাথর ভোলাগঞ্জে ফিরিয়ে নেয়া হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বলা হয়, ধোপাগুল এলাকায় অবস্থিত শতাধিক স্টোন ক্রাশার মিশিনে হাজারো ব্যবসায়ী শ্রমিকের জীবীকা নির্ভরশীল। যুগযুগ ধরে এ অঞ্চলের স্টোন ক্রাশারে এসব মানুষগুলো কাজ করে পরিজন নিয়ে জীবীকা নির্বাহ করে আসছেন। এগুলো বন্ধ করে দেয়ায় এ শিল্পের উপর নির্ভরশীল হাজারো শ্রমিক ব্যবসায়ী রোজগার বঞ্চিত হয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। ব্যাংক ঋন নিয়ে দেউলিয়া হয়ে অনেক ব্যবসায়ী পালিয়ে বেড়াচ্ছেন।

সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করা হয়, ভারত থেকে আমদানীকৃত এল সি পাথর ক্রাশিং ও বিপননে প্রশাসনিক কোনো বাঁধা নেই। ধোপাগুল এলাকার ক্রাশার মিশিনগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় আমদানীকৃত পাথর বিপনন করা সম্ভব হচ্ছেনা।

সংবাদ সম্মেলনে ব্যবসায়ীরা আর কোনোদিন প্রশাসনের নির্দেশনা মোতাবেক স্থানীয় তথা সাদাপাথর বিপনন করবেননা বলে অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। সংবাদ সম্মেলনে পাথর ব্যবসায়ীরা আরও উল্লেখ করেন, ধোপাগুল এলাকায় অবস্থিত স্টোন ক্রাশার সমূহের উপর নির্ভরশীল মানুষেরা বর্তমানে রোজগার বঞ্চিত হয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছেন। রোজগার বঞ্চিত অভাবি মানুষগুলোর কোনো বিকল্প কর্মসংস্থান না থাকায় এ অঞ্চলে মানবিক বিপর্যয় দেখা দেয়ার আশংকা রয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে অবিলম্বে মানবিক কারনে ধোপাগুল এলাকার স্টোন ক্রাশার মিশিনগুলোর বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপনের মাধ্যমে তা সচল করার দাবী জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন বিমানবন্দর থানা পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির লিঃ এর সভাতি কবির হোসেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ি নেতা শাব্বির আহমদ, রাজন আহমদ, শাহেদ আহমদ, সুহেল আহমদ, কাজী ফরহাদ, মাসুক আহমদ, আবদুল হান্নান, আমিনুর রহমান, হাবিবুর রহমান, আশরাফুল ইসলাম মুন্না, রিমু আহমদ, জিয়াউর রহমান, শাহীন আহমদ, আবুল কালাম আজাদ মামুন, সুমন দত্ত, লোকমান হোসেন, বুলবুল আহমদ,লিটন দাস, গোপীরঞ্জন তালুকদার, বাহারুল ইসলাম, ফয়জুল আহমদ, শামীম আহমদ, হারিছ মোল্লা, সুজন মিয়া প্রমুখ।

এই নিউজ ৩৪১ বার পড়া হয়েছে