সিলেটের ওসমানীনগরে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়ে সপরিবারে চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলার পাঁচপাড়া গ্রামের বাসিন্দা আওলাদ মিয়া। গতকাল রবিবার বাংলাদেশ মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট এসোসিয়েশন (বিএমজেএ) সিলেট বিভাগীয় কমিটির মিলনায়তনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই অভিযোগ করেন।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে আওলাদ মিয়া জানান, পূর্ব শত্রুতার জেরে গত ২১শে ফেব্রুয়ারি রাতে সিএনজি অটোরিকশাযোগে বাড়ি ফেরার পথে তিনি ও তার সঙ্গীরা নৃশংস হামলার শিকার হন। ১নং বিবাদী সেজন আহমেদের বাড়ির সামনে পৌঁছামাত্র সন্ত্রাসীরা তাদের গতিরোধ করে। তিনি অভিযোগ করেন, সেজন আহমেদের সরাসরি নির্দেশে ৩নং বিবাদী মিজানুর রহমান জনি লোহার পাইপ দিয়ে আওলাদ মিয়ার মাথায় হত্যার উদ্দেশ্যে আঘাত করে। একই সময় ৫নং বিবাদী জুয়েল মিয়ার ধারালো অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর জখম হন তার সঙ্গী দুলু মিয়া।
আওলাদ মিয়ার দাবি, হামলার সুযোগে ৪নং বিবাদী রোসমান মিয়া তার কাছ থেকে ব্যবসায়িক কাজের নগদ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। এছাড়া হামলাকারীরা তাদের বহনকারী সিএনজি অটোরিকশাটি ভাঙচুর করে প্রায় ৫০ হাজার টাকার ক্ষতিসাধন করে।
ভুক্তভোগী জানান, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আগে থেকেই আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। সেই আক্রোশ থেকেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে। এ ঘটনায় তিনি ইতিমধ্যে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সি.আর. মামলা দায়ের করেছেন। তবে মামলা দায়েরের পর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। আওলাদ মিয়ার ভাষ্যমতে, “এত বড় ঘটনার পরও বিবাদীরা প্রকাশ্যে ঘোরাফেরা করছে এবং মামলা তুলে নিতে আমাদের প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবার ঘরের বাইরে বের হতে পারছি না। আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছি।”
সংবাদ সম্মেলনে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়। সংবাদ সম্মেলনে আওলাদ মিয়ার বাবা, মা ও ভাইয়েরা উপস্থিত ছিলেন।
এই নিউজ ৩৭৬ বার পড়া হয়েছে