১৭ই মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৩রা চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৮শে রমজান, ১৪৪৭ হিজরি

ধামাইলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন গ্রন্থ ‘ধামাইল: উৎসের সন্ধানে’ প্রকাশ

প্রকাশিত মার্চ ১৬, ২০২৬, ০৪:০৬ অপরাহ্ণ
ধামাইলের ইতিহাস ও ঐতিহ্য নিয়ে নতুন গ্রন্থ ‘ধামাইল: উৎসের সন্ধানে’ প্রকাশ

বাংলার সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির একটি গুরুত্বপূর্ণ ধারা ধামাইল নিয়ে নতুন গবেষণাধর্মী গ্রন্থ ‘ধামাইল: উৎসের সন্ধানে (The Origins of Dhamail)’ প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রন্থটি সম্পাদনা করেছেন গবেষক, শিক্ষাবিদ ও সাংস্কৃতিক সংগঠক ড. অসীম চক্রবর্তী। বইটি প্রকাশ করেছে ঢাকার ভাষাচিত্র প্রকাশনী।

বইটি বাংলা ও ইংরেজি—দুই ভাষায় রচিত একটি সংকলন, যেখানে ধামাইলের উৎপত্তি, ঐতিহাসিক বিকাশ, সাহিত্যিক প্রভাব এবং সমকালীন চর্চা নিয়ে গবেষণামূলক প্রবন্ধ স্থান পেয়েছে। এতে প্রবন্ধ লিখেছেন ড. সায়মন জাকারিয়া, ড. সাইদুর রহমান লিপন, সুমনকুমার দাশ এবং ড. মোস্তাক আহমদ দীন।বইটির প্রচ্ছদ শিল্পী মৌনি মুক্তা চক্রবর্তী। গ্রন্থটিতে ধামাইলের সাংস্কৃতিক, সামাজিক ও নন্দনতাত্ত্বিক গুরুত্ব বিশ্লেষণের পাশাপাশি এই ঐতিহ্যের সঙ্গে যুক্ত লোকস্মৃতি, সংগীত এবং নারীদের ভূমিকা বিশেষভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

ধামাইল মূলত বাংলাদেশের সিলেট অঞ্চলের একটি ঐতিহ্যবাহী লোকসংগীত ও নৃত্যধারা। গ্রামীণ সমাজে বিশেষ করে নারীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে এই শিল্পধারা দীর্ঘদিন ধরে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে সংরক্ষিত হয়ে এসেছে। বিয়ের অনুষ্ঠান, উৎসব ও সামাজিক আয়োজনে নারীরা বৃত্তাকারে দাঁড়িয়ে তাল ও গানের মাধ্যমে ধামাইল পরিবেশন করেন, যা কেবল বিনোদনের মাধ্যম নয়, বরং সামাজিক বন্ধন ও সম্মিলিত স্মৃতির এক গুরুত্বপূর্ণ সাংস্কৃতিক প্রকাশ।

গ্রন্থটি একটি বৃহত্তর সাংস্কৃতিক উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। যুক্তরাজ্যভিত্তিক সাংস্কৃতিক সংগঠন মুক্ত আর্টস (Mukto Arts CIC) আয়োজিত Brit–Bangla Heritage Fest-এর ধারাবাহিক কর্মসূচির অংশ হিসেবে এই বই প্রকাশ করা হয়। এই উৎসবের লক্ষ্য হলো ব্রিটিশ–বাংলাদেশি সম্প্রদায়ের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য অনুসন্ধান, সংরক্ষণ এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা পৌঁছে দেওয়া। এর আগে এই উৎসবের মাধ্যমে বাংলা কীর্তন ও ভাটিয়ালি সংগীত নিয়েও বিভিন্ন সাংস্কৃতিক আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়েছে।

উদ্যোক্তারা জানান, প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা লোকঐতিহ্যের সঙ্গে পরিচয়ের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হতে পারে এ ধরনের গবেষণামূলক প্রকাশনা।

গ্রন্থটি ইতোমধ্যে লন্ডনের Tower Hamlets Local History Library & Archives-এ সংরক্ষিত (archived) হয়েছে, প্রবাসী বাংলাদেশিদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। পাশাপাশি বইটি লন্ডনের জনপ্রিয় কমিউনিটি লাইব্রেরি নেটওয়ার্ক Idea Store-এও পাঠকদের জন্য উপলব্ধ করা হয়েছে।

সম্পাদক ড. অসীম চক্রবর্তী আশা প্রকাশ করেন, এই বই ধামাইল নিয়ে নতুন গবেষণা, শিল্পচর্চা এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সাংস্কৃতিক সংলাপকে আরও উৎসাহিত করবে। তাঁর মতে, ধামাইল কেবল একটি লোকসংগীত বা নৃত্য নয়; এটি বাংলার সামাজিক স্মৃতি, আধ্যাত্মিকতা এবং প্রজন্মান্তরের সাংস্কৃতিক ধারাবাহিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ বহিঃপ্রকাশ।

এই নিউজ ৩১১ বার পড়া হয়েছে