[english_date], [bangla_date], [hijri_date]

সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে যুবক নিহত, ৪ দিনেও মিলেনি মরদেহ

প্রকাশিত April 5, 2026, 05:26 AM
সিলেট সীমান্তে ভারতীয় খাসিয়াদের গুলিতে যুবক নিহত, ৪ দিনেও মিলেনি মরদেহ

সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ সীমান্তে খাসিয়াদের গুলিতে সাদ্দাম হোসেন (৩৮) নামে এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে এই ঘটনার চার দিন পেরিয়ে গেলেও ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) এখনো তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেনি। নিহতের মরদেহটি এখনও ভারতের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে বলে জানা গেছে।

নিহত সাদ্দাম হোসেন উপজেলার উত্তর রণীখাই ইউনিয়নের লামা উত্তমা গ্রামের বাসিন্দা এবং বীর মুক্তিযোদ্ধা কুটু মিয়ার ছেলে।

স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত ১ এপ্রিল বুধবার দুপুর আনুমানিক ১২টার দিকে সাদ্দাম হোসেনসহ ৪ জন বাংলাদেশি যুবক সীমান্ত অতিক্রম করে চোরাই পথে ভারতের অভ্যন্তরে প্রবেশ করেন। তারা সীমান্তের ১২৪৭ নম্বর পিলারের প্রায় ৬০০ গজ ভেতরে ভারতের রাজনটিলা এলাকায় সুপারি সংগ্রহ করতে গিয়েছিলেন।

এ সময় স্থানীয় সুপারি বাগানের মালিক খাসিয়ারা তাদের লক্ষ্য করে অতর্কিতে গুলি চালায়। গুলিতে সাদ্দাম হোসেন ঘটনাস্থলেই নিহত হন। এ সময় তার সঙ্গে থাকা ফরহাদ মিয়া (২২) নামের আরেক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। ফরহাদ একই গ্রামের লিলু মিয়ার ছেলে। বাকি সঙ্গীরা (আবু বক্কর ও জফির মিয়া) দ্রুত ফরহাদকে উদ্ধার করে বাংলাদেশ সীমান্তে নিয়ে এলেও সাদ্দামের মরদেহ ভারতের অভ্যন্তরেই ফেলে আসতে বাধ্য হন।

নিহতের বড় ভাই নাজীম উদ্দীন ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, আমার ভাইসহ চারজন ভারতে গিয়েছিল। সেখানে খাসিয়ারা গুলি করলে ও ঘটনাস্থলেই মারা যায়। আজ চার দিন পার হয়ে গেলেও এখনো আমরা লাশটা দেশে আনতে পারিনি। আমরা প্রশাসনের কাছে দ্রুত লাশটি ফেরত চাই।

এ বিষয়ে কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম শনিবার রাতে জানান, নিহত সাদ্দামসহ কয়েকজন সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতে যাওয়ার পর খাসিয়ারা গুলি ছুঁড়লে সাদ্দাম ভারতের অভ্যন্তরেই মারা যান। তার মরদেহ এখনো হস্তান্তর করা হয়নি। তবে এ বিষয়ে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এর মধ্যে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে বলে জেনেছি।

এদিকে উত্তমা বিজিবি ক্যাম্পের কমান্ডার আবুল কালাম জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে বিএসএফের সঙ্গে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি আইনি প্রক্রিয়া সহজ করতে নিহতের পরিবারকে স্থানীয় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এই নিউজ 370 বার পড়া হয়েছে