সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জে অবস্থিত দেশের অন্যতম বৃহৎ সার কারখানা শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেড (এসএফএফএল) থেকে উৎপাদিত কেমিক্যাল ‘তরল অ্যামোনিয়া’ সংগ্রহে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন অনুমোদিত ডিলাররা। স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের প্রত্যক্ষ মদদে একটি অসাধু চক্রের বাধার মুখে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ কর্পোরেশনের (বিসিআইসি) ডিলাররা বর্তমানে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। সময়মতো পণ্য না পাওয়ায় ডিলারদের ব্যবসায়িক ক্ষতির পাশাপাশি বাজারে কৃত্রিম সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ভুক্তভোগী ডিলারদের অভিযোগ, কারখানা থেকে বরাদ্দকৃত তরল অ্যামোনিয়া খালাস করতে গিয়ে তারা নিয়মতান্ত্রিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন। ডিও (ডেলিভারি অর্ডার) জমা দেওয়ার পরও ট্রাক কারখানার গেটে দিনের পর দিন বসিয়ে রাখা হচ্ছে। বিশেষ করে ট্রাক লোডিং এবং গেট পাস ইস্যু করার ক্ষেত্রে একটি চক্র কৃত্রিম জট তৈরি করে ডিলারদের জিম্মি করে রেখেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ডিলার আক্ষেপ করে বলেন, বৈধভাবে ডিও পাওয়ার পরও আমরা মালামাল লোড করতে পারছি না। গেটে সিরিয়ালের নামে অহেতুক দেরি করানো হচ্ছে। একেকটি ট্রাক দাঁড়িয়ে থাকায় প্রতিদিনের জন্য অতিরিক্ত খোরাকি ও ট্রাক ভাড়া গুনতে হচ্ছে। আমরা রীতিমতো অসহায় হয়ে পড়েছি।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর একটি নির্দিষ্ট প্রভাবশালী মহল কারখানার লোডিং ও সরবরাহ প্রক্রিয়া নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে চাইছে। সাধারণ ডিলাররা এই চক্রের অনৈতিক দাবি না মানলে তাদের সিরিয়াল পেছনে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে ডিলারদের সরাসরি হুমকি-ধমকি দেওয়ার ঘটনাও ঘটছে। মূলত বিসিআইসি লাইসেন্সধারী প্রকৃত ডিলারদের কোণঠাসা করে একটি কুচক্রী মহল এই লাভজনক খাতের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
ইউরিয়া সারের ‘বাই-প্রোডাক্ট’ হিসেবে উৎপাদিত এই গ্যাসকে উচ্চ চাপে তরল করে সিলিন্ডারজাত করা হয়। এই তরল অ্যামোনিয়া মূলত: বরফ কল, কোল্ড স্টোরেজ, স্টিল মিল ও ডাইং ফ্যাক্টরি এসব শিল্পে অত্যাবশ্যকীয় কেমিক্যাল হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়। সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় এসব গুরুত্বপূর্ণ শিল্প খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এ বিষয়ে শাহজালাল ফার্টিলাইজার ফ্যাক্টরি লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) সুলেমান আহমদ জানান, সাময়িক কিছু সমস্যার কারণে গ্যাস ডেলিভারি কিছুটা কম হচ্ছে। তবে দ্রুতই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যাবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। কারখানা কর্তৃপক্ষ বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও মাঠ পর্যায়ের চিত্র এখনো উদ্বেগজনক বলে দাবি ডিলারদের।
বর্তমানে কারখানা এলাকায় ডিলারদের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। সাধারণ ডিলাররা এই অরাজকতা বন্ধে বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ এবং স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি ও কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এই নিউজ 308 বার পড়া হয়েছে