গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোলাপগঞ্জের বাদেপাশা গ্রামে ৫০ বছরের পুরাতন বাদেপাশা জামে মসজিদ (পূর্ব নাম বাদেপাশা উত্তরহাটি পাঞ্জেগানা মসজিদ) এর নাম পরিবর্তনে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন মহামান্য আদালত। বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে এ আদেশ দেশ দেন বিচারক নূর-ই জান্নাত তাবাসসুম।
এর আগে জোরপূর্বক এই মসজিদটির ব্যক্তির নামে ” বাদেপাশা শেখ নিদাই জামে মসজিদ” নামে পরিবর্তনের চেষ্টার করলে ২০২৪ সালে মসজিদের নাম পরিবর্তনে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার প্রার্থনায় মসজিদের ভুমি দাতার পক্ষ থেকে আদালতে মামলা দায়ের করেন মোঃ লতিফুর রহমান (সত্ত্ব মামলা নং ৫৭/২০২৪ ইংরেজি)। এই মামলাটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানির পর আদালত মামলার সমস্ত সাক্ষ্য, প্রমাণ ও যুক্তিতর্ক বিশ্লেষণ করে এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করেন।
রায়ে বিচারক উল্লেখ করেন, মসজিদের সার্বজনীন প্রকৃতি হল এটি কোন ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয় বরং এটি আল্লাহর ঘর। মসজিদের সকল কার্যক্রম আল্লাহল সন্তুষ্টির জন্য উৎসর্গ করা হয় কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠির স্বার্থে এটি ব্যবহৃত হয়না। কোন নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে এর নামকরণ করা হলে এর সার্বজনীন প্রকৃতিতে আঘাত করা হয়। এটি মুসলিম সম্প্রদায়ের সাধারণ ইবাদাতগাহ হিসাবে সকলের সমান অধিকারের পরিপন্থি।
শরীয়তের নির্দেশনা অনুযায়ি মসজিদের নাম সাধারণত আল্লাহর গুনবাচক নাম বা কোন ধর্মীয় তাৎপর্যপূর্ণ নামে হওয়া বাঞ্চনীয় তা না হলে ইসলামী চেতনার সাথে সাংঘর্ষিক হয়। কোন বিশেষ ব্যক্তির নামে মসজিদের নাম করণ হলে এলাকার অন্যান্য বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ বা বিভেদ সৃষ্টি হতে পারে এবং এতে সামাজিক ভারসম্য নষ্ট হওয়া এবং সাধারন মুসুল্লিদের মধ্যে সম্প্রীতি নষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।
সুতরাং মোকদ্দমার নথি, সাক্ষ্য পর্যালোচনা ও যুক্তিতর্ক শুনানীতে অস্ত্র আদালতের নিকট প্রতীয়মান হয় যে, মসজিদের সার্বজনীন নাম বজায় রাখার পেছনে বাদীর আইনগত অধিকার আছে। নির্দিষ্ট ব্যক্তির নামে মসজিদের নামকরণ হলে তা ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও সামাজিক সংহতির ক্ষতি করবে এবং দীর্ঘমেয়াদী কোন্দল তৈরি হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।
অতএব, উপর্যুক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে ও সার্বিক দিক পর্যালোচনায় অত্র বিচার্য বিষয় বাদীপক্ষের অনুকূলে নিষ্পত্তি করা হলো।
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, মামলার বাদী বাদেপাশা গ্রামের মোঃ লতিফুর রহমানের পিতা ডা:মোহাম্মদ আলী জীবিত থাকা অবস্থায় বাদেপাশা গ্রামে উত্তর হাটির মুসল্লিয়ানগণের পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায়ের সুবিধার্থে একটি পাঞ্জেগানা মসজিদ নির্মাণ করার জন্য তিনি তার মৌরসী সম্পত্তি থেকে ১৯৭৭ সালের ২৭ জুন সম্পাদিত ৪৬৫০/ ১৯৭৭ইং নম্বর ওয়াকফনামা দলিল মূলে “বাদেপাশা উত্তরহাটি পাঞ্জেগানা মসজিদ” এর মোতাওয়াল্লি বরাবরে এস.এ. ১১৭ ও ২৫৩ খতিয়ানের এস.এ. ৯২ দাগে ০.০৪ একর ভূমি দান করেন । এরপর থেকেই এই নামেই এ মসজিদটি পরিচালনা হয়ে আসছিল।
মসজিদ নির্মাণের পর্যায় ক্রমে মুসল্লি সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় মসজিদের ইমাম মোয়াজ্জিনের সম্মানী সহ আনুষাঙ্গিক খরচাপাতি বৃদ্ধি পায়।
এসব সার্বিক দিক বিবেচনা করে সকল মুসল্লিদের সাথে পরামর্শ করে বাদী মোঃ লতিফুর রহমান গং যৌথ ভাবে ২০২২ সালের ২৯ মার্চ ১৪০৬/২০২২ইং নম্বর দলিল মূলে বি.এস. ১২২০ খতিয়ানের বি.এস. ৫১৮০ দাগে ০.২২৬৪ একর ভূমি “বাদেপাশা জামে মসজিদ” এর নাম বরাবরে হস্তান্তর করেন।
একই ভাবে ২০২৩ সালের ১৯ জুলাই মোঃ লতিফুর রহমান এবং ওবায়দুর রহমান যৌথ ভাবে ২৪৮৫/২০২৩ইং নম্বর সাফ কবালা দলিল মূলে বি.এস. ৩৭৯ খতিয়ানের ২৭ দাগে ০.০০৮৫ একর ভূমি “বাদেপাশা জামে মসজিদ” বরাবরে হস্তান্তর করেন।
এই দলিলে সুষ্পষ্ট ভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, মসজিদের দাতা পরিবারের সদস্যদের লিখিত অনুমতি ব্যতিত বর্ণিত মসজিদের নাম পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন করা যাবেনা।
এরপরেও মসজিদের পরিচালনা কমিটি সহ একটি শক্তিশালী মহল শেখ নিদাই নামে মসজিদের নামকরণে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত ছিলেন। তারা মসজিদের সাধারণ মুসল্লি ও ভুমিদাতাগণের মতামতের কোন তোয়াক্কা না করে তাদের খেয়াল খুশিমতো ব্যক্তির নামে মসজিদের নামকরণ করার সর্বাত্বক চেষ্টা চালাচ্ছিলেন।
এই নিউজ 393 বার পড়া হয়েছে