টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নতুন স্পিকার নির্বাচিত হয়েছেন মুস্তাক আহমদ। বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় কাউন্সিল চেম্বারে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলের বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম)-এ বেথনাল গ্রিন ওয়েস্ট ওয়ার্ডের এই কাউন্সিলরকে ২০২৬-২৭ মেয়াদের জন্য স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। একই সভায় নতুন ডেপুটি স্পিকার কাউন্সিলর ইকবাল হোসেন নির্বাচিত হন।
সভায় বিদায়ী স্পিকার সুলুক আহমেদ নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন। নতুন নেতৃত্বকে অভিনন্দন জানিয়ে লুৎফুর রহমান বলেন, “টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের স্পিকার ও প্রথম নাগরিক হিসেবে কাউন্সিলর মুস্তাক আহমেদ এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনে আন্তরিক অভিনন্দন।
মেয়র আরও বলেন, “আমাদের এই নেতৃত্বদানকারী টিম টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের সেবায় নিরলসভাবে কাজ করবে এবং এলাকাকে সকলের জন্য আরও উন্নত করতে আমরা সবাই প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
গত ৩০ বছরেরও বেশি সময় ধরে টাওয়ার হ্যামলেটসে বসবাসরত মুস্তাক আহমদের জন্ম বাংলাদেশের সিলেট জেলার দক্ষিণ সুরমার জালালপুরের খতীরা গ্রামে। সম্মানিত এক পরিবারে বেড়ে ওঠা মুস্তাকের জীবনের শুরুটা ছিল সংগ্রামের। ১৮ বছর বয়সে যুক্তরাজ্যে পাড়ি জমানোর পর তিনি কিচেন পোর্টার হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কঠোর পরিশ্রম ও উদ্যোক্তা মনোভাবের মাধ্যমে অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি নিজস্ব রেস্টুরেন্ট ব্যবসার মালিক ও ব্যবস্থাপক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পান।
পরবর্তীতে ৩২ বছর বয়সে তিনি আবার শিক্ষাজীবনে ফিরে যান। টাওয়ার হ্যামলেটস কলেজে অধ্যয়নকালে “স্টুডেন্ট অব দ্য ইয়ার” নির্বাচিত হন। পরে Queen Mary University of London-এ আইন বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করে Open University থেকে BA (Hons) ডিগ্রি অর্জন করেন। এরপর The University of Law-এ আইনশাস্ত্রে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করে LLB ও Bar-at-Law সম্পন্ন করেন। ২০১৭ সালে তিনি Inner Temple থেকে বার-এ আহ্বান লাভ করেন।
পেশাগত জীবনে মুস্তাক আহমদ সিভিল ও এমপ্লয়মেন্ট আইনে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেছেন। বর্তমানে তিনি Lawmatic-এ ট্রেইনি সলিসিটর ও লিটিগেশন কনসালট্যান্ট হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এছাড়া পুলিশ স্টেশন প্রতিনিধি হিসেবেও তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।
জনসেবামূলক কর্মকাণ্ডেও তাঁর রয়েছে সক্রিয় সম্পৃক্ততা। তিনি পুলিশ কাস্টডি ভিজিটর প্যানেলের সদস্য ও স্কুল গভর্নর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে গত দুই বছর “ক্যাবিনেট মেম্বার ফর জবস, স্কিলস অ্যান্ড গ্রোথ” হিসেবে কাজ করেছেন। এর আগে তিনি “ওভারভিউ অ্যান্ড স্ক্রুটিনি কমিটি”-র চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
কমিউনিটি পর্যায়েও তিনি সুপরিচিত মুখ। কাউন্সিল অফ মস্ক টাওয়ার হ্যামলেটেস
-এর সাবেক নির্বাহী সদস্য এবং Bishopsway Mosque-এর পরিচালক ও সেক্রেটারি হিসেবে তিনি আন্তধর্মীয় সম্প্রীতি ও সামাজিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। পাশাপাশি Jalalpur Advancement Committee UK-এর সেক্রেটারি হিসেবেও কাজ করছেন।
একজন দক্ষ বক্তা হিসেবে গার্হস্থ্য সহিংসতা, আন্তধর্মীয় সম্পর্ক ও সামাজিক বিভিন্ন বিষয়ে তিনি বক্তব্য রেখেছেন। রাজনৈতিক জীবনেও তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছেন। Aspire দলের ৪৪ জন প্রার্থীর মধ্যে সর্বোচ্চ জনসমর্থন লাভ করে নির্বাচিত হওয়া তাঁর জনপ্রিয়তারই প্রতিফলন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই পুত্র ও এক কন্যা সন্তানের জনক। সাহিত্য, দর্শন ও ধর্মতত্ত্বের প্রতিও তাঁর গভীর অনুরাগ রয়েছে। বিশেষ করে মুহাম্মদ ইকবাল, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং কাজী নজরুল ইসলাম-এর সাহিত্যকর্ম নিয়ে তাঁর বিস্তৃত জ্ঞান রয়েছে।
অভিবাসী জীবনের সংগ্রাম পেরিয়ে একজন সফল আইনজীবী, রাজনীতিবিদ ও কমিউনিটি নেতা হিসেবে মুস্তাক আহমদের উত্থান আজ অনেকের জন্যই অনুপ্রেরণার প্রতীক।
এই নিউজ 306 বার পড়া হয়েছে