২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, ৮ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সিলেটের স্বায়ত্তশাসন ও সিলটি ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সিলটি পাঞ্চায়িত’র জনসভায় বাধা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত এপ্রিল ২৫, ২০২৬, ০৮:৩২ পূর্বাহ্ণ
সিলেটের স্বায়ত্তশাসন ও সিলটি ভাষাকে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে সিলটি পাঞ্চায়িত’র জনসভায় বাধা, প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

সিলেট বিভাগের স্বায়ত্তশাসন, সিলটি ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা ঘোষণা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের দাবিতে জনসভায় পুলিশের বাধা প্রদানের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’।

শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুরে সিলেট নগরীর পূর্ব জিন্দাবাজারস্থ একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এই প্রতিবাদ জানান।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের সভাপতি নাসির উদ্দিন আহমদ চৌধুরী।

লিখিাত বক্তব্যে বলা হয়, গত ১৮ই এপ্রিল সিলেট নগরীর কোর্ট পয়েন্টে জনসভার ডাক দিয়েছিল সংগঠনটি। কিন্তু পুলিশ কমিশনার নির্দিষ্ট দুটি দাবি (স্বায়ত্তশাসন ও রাষ্ট্রভাষা) বাদ না দিলে জনসভা করতে দেওয়া হবে না বলে সাফ জানিয়ে দেন। এর প্রতিবাদে সংগঠনটি তাৎক্ষণিকভাবে সভা স্থগিত করে এবং আজকের এই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসনের এই ভূমিকাকে ‘সাংবিধানিক মৌলিক অধিকারের লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলা হয়, ১৮ কোটি মানুষের বাংলাদেশে কেবল কেন্দ্রভিত্তিক শাসন ব্যবস্থা বর্তমান বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা কঠিন।

তিনি উদাহরণ টেনে বলেন, ৭ কোটি জনসংখ্যার যুক্তরাজ্যে ৪টি স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল রয়েছে, মাত্র ২ কোটি ২০ লাখ জনসংখ্যার শ্রীলঙ্কায় ৯টি প্রদেশ রয়েছে, সিলেটের নিজস্ব বর্ণমালা (সিলটি নাগরী) ও সমৃদ্ধ ভাষা রয়েছে, যা বিশ্বের অনেক দেশে দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা হিসেবে স্বীকৃত ভাষার মতোই মর্যাদাপূর্ণ।

লিখিত বক্তব্যে তিনি দাবি করেন, বিশ্বজুড়ে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ মানুষ সিলটি ভাষায় কথা বলেন। প্রবাসী নতুন প্রজন্মের কাছে বাংলা অপেক্ষা সিলটি ভাষা বেশি সমাদৃত। তাই সিলটি ভাষাকে দেশের দ্বিতীয় রাষ্ট্রভাষা বা অফিসিয়াল ভাষা করা এখন সময়ের দাবি।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, এর আগে ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৫ সালেও একই দাবিতে শহীদ মিনার ও কোর্ট পয়েন্টে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালিত হয়েছে এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধান উপদেষ্টা বরাবর স্মারকলিপি প্রদান করা হয়েছে। ‘সিলটি পাঞ্চায়িত’ কোনো আন্ডারগ্রাউন্ড বা নিষিদ্ধ দল নয়, বরং একটি নিয়মতান্ত্রিক আঞ্চলিক রাজনৈতিক সংগঠন।

লিখিত বক্তব্যে আরো বলেন, পুলিশের অতিউৎসাহী কিছু কর্মকর্তা জনসভার অনুমতি না দিয়ে জনগণের মত প্রকাশের অধিকার কেড়ে নিয়েছেন। সংসদ সদস্য ও সরকার সিদ্ধান্ত নেবেন দাবি মানবেন কি না, কিন্তু পুলিশ আমাদের কণ্ঠরোধ করার অধিকার রাখে না।

সংবাদ সম্মেলন থেকে ঘোষণা করা হয় যে, বর্তমান সরকার যদি এই ন্যায্য দাবিগুলো গুরুত্বের সাথে বিবেচনা না করে, তবে তারা জাতিসংঘ, ইউরোপিয়ান ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর দ্বারস্থ হতে বাধ্য হবেন। সিলেটের গণমানুষের এই ‘প্রাণের দাবি’ আদায়ে গণমাধ্যমকর্মীদের সহযোগিতা কামনা করেন নেতৃবৃন্দ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, সংগঠনের সহ-সভাপতি এডভোকেট মামুন রশিদ, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট তাজ রীহান জামান, যুগ্ম সম্পাদক কামাল আহমদ, সৈয়দ ফেরদৌস আহমদ, যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট আজাদ আহমদ, প্রচার সম্পাদক সাজ্জাদ আহমদ সাজু, সহ-প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক শাওন, সহ-সাংস্কৃতিক সম্পাদক বাহা উদ্দিন বাহা, সদস্য খসরুর রশিদ, ইফতেখার আহমদ জাহেদী, সায়েম আহমদ চৌধুরী, তাহির আহমদ, জাহাঙ্গীর আলম, মো: জাকারিয়া রব্বানী, জুয়েল আহমদ প্রমুখ। শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত করেন আনোয়ার আহমদ।

এই নিউজ ৩১০ বার পড়া হয়েছে