১২ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ২৯শে চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২৪শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

এক যুগ পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান কী ঘটেছিল ইলিয়াস ও তাঁর তিন সঙ্গীর ভাগ্যে?

প্রকাশিত এপ্রিল ১১, ২০২৬, ১২:৪৯ অপরাহ্ণ
এক যুগ পেরিয়েও মেলেনি সন্ধান কী ঘটেছিল ইলিয়াস ও তাঁর তিন সঙ্গীর ভাগ্যে?

সিলেট বিএনপির জন্য ২০১২ সালের এপ্রিল মাস যেন এসেছিল এক ‘অশনি সংকেত’ হয়ে। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে নিখোঁজ হয়েছিলেন সিলেট বিএনপির চার প্রাণপুরুষ। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গুম হওয়া ব্যক্তিদের ফিরে আসার খবরে তাঁদের পরিবারগুলো বুক বাঁধলেও, ১৪ বছর পর এখনো অপেক্ষার প্রহর কাটছে না নিখোঁজদের স্বজনদের।

ঘটনার সূত্রপাত যেভাবে ২০১২ সালের ২২ মার্চ সিলেট নগরের উপশহরে ছাত্রদল নেতা মাহমুদ হোসেন শওকত খুনের পর মামলার আসামি হিসেবে আত্মগোপনে যান জেলা ছাত্রদলের তৎকালীন সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও তাঁর বন্ধু জুনেদ আহমদ। ৩ এপ্রিল ঢাকার উত্তরা এলাকা থেকে সাদাপোশাকে তাঁদের তুলে নেওয়া হয়। প্রিয় অনুসারীদের নিখোঁজের প্রতিবাদে ৮ এপ্রিল সিলেটে সংবাদ সম্মেলন করে সরকারকে হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম ইলিয়াস আলী। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ৯ দিনের মাথায়, ১৭ এপ্রিল রাতে ঢাকার বনানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ নিখোঁজ হন স্বয়ং ইলিয়াস আলী।

ইলিয়াস আলীর পরিণতি ও গুম কমিশনের তদন্ত শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, গুম করার পর ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়েছে—এমন তথ্য দিয়েছেন গ্রেপ্তার হওয়া কয়েকজন কর্মকর্তা। তবে ছাত্রদল নেতা দিনার, জুনেদ ও গাড়িচালক আনসারের বিষয়ে এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।

পরিবার ও দলের ভাষ্য নিখোঁজ দিনারের বোন তাহসিন শারমিন তামান্না বলেন, “ভেবেছিলাম সরকার পরিবর্তন হলে ভাইকে ফিরে পাব। গুম হওয়া অনেকে ফিরলেও আমাদের ভাইয়ের কোনো খবর নেই। গুম কমিশন তথ্য নিলেও এখনো সন্ধান দিতে পারেনি। যেহেতু খারাপ খবর কেউ দেয়নি, আমরা এখনো আল্লাহর ওপর ভরসা করে আশায় আছি।”

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার এদের গুম করে রেখেছিল। আমরা দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে তাঁদের সন্ধানে আন্দোলন করছি এবং এখনো তাঁদের ফেরার ব্যাপারে আশাবাদী।”

অগ্নিগর্ভ সিলেটের স্মৃতি ইলিয়াস আলী নিখোঁজের পর সে সময় সিলেট রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছিল। তাঁর জন্মস্থান বিশ্বনাথে পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারিয়েছিলেন পাঁচজন। দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে রাজপথের সেই আন্দোলন আর কান্নার শব্দ আজও থামেনি নিখোঁজদের পরিবারে। ৫ আগস্টের পর ‘আয়নাঘর’ থেকে বেশ কয়েকজন মুক্তি পেলেও সিলেটের এই চারজনের হদিস না মেলায় জনমনে প্রশ্ন উঠেছে তবে কী ‘গুরু’ ইলিয়াস আলীর ভাগ্যই বরণ করতে হয়েছে তাঁর তিন শিষ্যকে?

অপেক্ষা আর অনিশ্চয়তার দোলাচলে এখনো কাটছে নিখোঁজ পরিবারগুলোর দিনরাত। সরকার ও গুম কমিশনের তৎপরতাই এখন তাঁদের শেষ ভরসা।

এই নিউজ ৩০৯ বার পড়া হয়েছে