স্টাফ রিপোর্ট: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার সিলাম চকের বাজার এলাকায় সংঘর্ষে নিহত যুবক রাসেল আহদ শাহ মাহির হত্যা মামলায় ২৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এ মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেথকে ১৫ জন আসামী করা হয়েছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে সিলেট মহানগর পুলিশের মোগলাবাজার থানায় মামলাটি দায়ের করেন নিহতের মা মোছাঃ রাজনা বেগম।
এজহারে হত্যার অভিযোগ
এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার (২ অক্টোবর) দুপুর আনুমানিক আড়াইটার দিকে মোগলাবাজার থানাধীন সিলাম চকের বাজার এলাকায় শাহ হুমায়ুনের দোকানের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, আসামীরা পরস্পর যোগসাজশে বেআইনিভাবে সংঘবদ্ধ হয়ে রাস্তা আটকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে রাসেল আহমদ শাহ মাহিরের ওপর হামলা চালান। এতে তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তী সময়ে মারা যান। এ ঘটনায় হামলার নির্দেশ ও প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগ ও আনা হয়েছে।
মামলায় যাঁদের নাম উল্লেখ করা হয়েছে
এজহারে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন সিলাম নয়াপাড়ার ফজলু মিয়া (৫৫) ও আবেদ রাজা (৫৫), ঢালিপাড়া নাঈম আহমদ পামেল (২৬), চর মোহাম্মদপুর শাহ মোহাম্মদ আসাদুর রহমান (৩৪), শুড়ি গাও ফখরুল ইসলাম ফাহিম, সিলাম শেখপাড়ার ইয়াসিন আহমদ ফাহিম (৩৩), আব্দুস সামাদ (৩৩), রনি (৩৫), তানিম আহমদ (২৪), সুমন আলী (৩৪), শহিদ আলী (২৮), কামরান (২৪), মাহবুব (২০), জুবায়ের আহমদ জুবেল (২২), রাফি (২০), সালমান (২৫), আহমদুর রহমান সাদেক (৪০), মাছুম (২৫), মুহিম (২২), রাজু মিয়া (৪৫), মজাহিদ আলী (৩৭), আলী রুবেল (৩৩), গুল্লি সুয়েব (৫৫), সিলাম নয়াপাড়ার সিরাজুল ইসলাম (৫২), চান্দাই বনু টিলার উজ্জল মিয়া (৩৫)।
যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর সিলাম চকের বাজার এলাকায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় রাসেল আহমদ শাহ মাহির গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্থানীয়দের দাবী, পূর্ববিরোধের জের ধরে সংঘর্ষের সময় তিনি হামলার শিকার হন।
দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি এলাকাবাসীর
রাসেল আহমদ শাহ মাহির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার দাবি
জানিয়েছেন সিলামের স্থানীয় বাসিন্দারা।
এলাকাবাসীর দাবি, হুত্যাকাণ্ডের ঘটনার যাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, তাঁদের আইনের আওতায় আনতে হবে। বিশেষ করে লন্ডনে অবস্থান করছেন বলে দাবি করা হুকুমদাতা আবেদ রাজা, নাঈম আহমদ পামেল ও শাহ মোহাম্মদ আসাদুর রহমানকে দেশে ফিরিয়ে এনে আইনের মুখোমুখি করা দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এলাকাবাসী আরও বলেন, তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত অপরাধীদের শনাক্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
অভিযোগ প্রমাণিত হলে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তাঁরা।
থানায় নিয়মিত মামলা রেকর্ড
থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বাদী কম্পিউটারে টাইপ করা এজাহারটি তাঁর চাচাতো দেবর সুমন শাহের মাধ্যমে থানায় পৌঁছলে পুলিশ তা গ্রহণ করে নিয়মিত মামলা হিসাবে রেকর্ড করে।
এ ঘটনায় নিহতের পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারা সুষ্ঠু তদন্ত, অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।
এই নিউজ 333 বার পড়া হয়েছে