শ্রীমঙ্গল প্রতিনিধি:
১৫ সেপ্টেম্বর ২০২১: মৌলভীবাজার জেলায় বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দল আজ সন্ধ্যায় রূপ নেয় ভয়াবহ সহিংসতায়। কমলগঞ্জের গ্রামের বাড়ি থেকে সিলেট যাওয়ার পথে সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট ছাত্রদল সভাপতি ও মহানগর ছাত্রদলের নেতা শফিকুর রহমানের গাড়িতে পেছন দিক থেকে সন্ত্রাসীরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। সরাসরি হত্যার উদ্দেশ্যেই এই হামলা চালানো হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। হামলায় শফিকুর রহমান নাক ও পায়ে আঘাত পেয়ে রক্তাক্ত হন।
প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এ হামলার পেছনে নাম উঠেছে দুই প্রভাবশালী ব্যক্তির—সাবেক শ্রীমঙ্গল পৌরসভার মেয়র ও মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির সদস্য মহসিন মিয়া মধু এবং আদমপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ১৯৯৬ সালের সিরাজ হত্যা মামলার আসামি আব্দাল হোসেন। দীর্ঘদিন ধরেই এ দুইজনের সঙ্গে শফিকুর রহমানের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব উত্তপ্ত হয়ে উঠেছিল।
মৌলভীবাজার–৪ (কমলগঞ্জ–শ্রীমঙ্গল) আসনে বিএনপির সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন মহসিন মিয়া মধু ও শফিকুর রহমান। মনোনয়ন কেন্দ্রিক প্রতিযোগিতা থেকে শুরু হওয়া এই দ্বন্দ্ব ধীরে ধীরে তীব্র সংঘাতে রূপ নেয়। শফিকুর রহমান বেশ কয়েকবার প্রকাশ্যে অভিযোগ করেন যে, মহসিন মধু দুর্নীতিতে জড়িত, দলীয় আদর্শবিরোধী কর্মকাণ্ডে লিপ্ত এবং ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের বিভিন্ন নেতাদের সঙ্গে গোপন আঁতাত বজায় রাখছেন। এসব অভিযোগে ক্ষুব্ধ হয়ে মহসিন মিয়া তাকে একাধিকবার হুমকি দেন বলেও দলীয় নেতারা জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, আব্দাল হোসেন বহু বছর ধরে এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, খুন, চোখ উপড়ে অন্ধ করে দেওয়া, ডাকাতি, নারী নির্যাতন, সরকারি সম্পদ লুট ও বিপুল অর্থপাচারসহ অসংখ্য অভিযোগের জন্য পরিচিত। ১৯৯৬ সালের সিরাজ হত্যা মামলার আসামি হওয়া সত্ত্বেও তিনি ধারাবাহিকভাবে চেয়ারম্যানের পদে বহাল আছেন। সিরাজ হত্যা মামলার বিচার নিশ্চিত করতে শফিকুর রহমান সামাজিক মাধ্যম সহ নিয়মিত প্রতিবাদ করে আসছিলেন। এতে তিনি আব্দাল হোসেনের চরম শত্রুতার লক্ষ্যবস্তু হয়ে ওঠেন এবং তাকে প্রকাশ্যে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।
১৫ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় কমলগঞ্জ থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে রওনা হওয়ার পর এক নির্জন এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎই অস্ত্রধারী একদল সন্ত্রাসী তার গাড়ির পিছন দিক থেকে হামলা করে। দেশীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার উপর হামলা চালানো হয়। হামলায় শফিকুর রহমান নাক ও পায়ে গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত হন। রক্তাক্ত অবস্থাতেও তিনি যেখান থেকে পালিয়ে সরে যেতে সক্ষম হন। তিনি জানিয়েছেন, যদি তিনি সেখান থেকে পালিয়ে না যেতেন তাহলে সেদিন হয়তো তাকে আর জীবিত রাখা হতো না।
হামলার খবর পেয়ে সিলেট মহানগর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রদল নেতা মাহবুব চৌধুরী হাসপাতালে গিয়ে শফিকুর রহমানকে দেখতে আসেন। তিনি বলেন, এটি একটি পরিকল্পিত হত্যার চেষ্টা এবং দলের অভ্যন্তরীণ কোন্দল এখন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। তিনি আরও অভিযোগ করেন, ক্ষমতার প্রতিযোগিতা ও ব্যক্তিগত আক্রোশে প্রভাবশালী কিছু ব্যক্তি সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রতিপক্ষ নেতাদের ওপর হামলা করাচ্ছেন।
স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা বিএনপির অভ্যন্তরীণ ভয়াবহ সংকটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এর ফলে নেতাকর্মীরাই নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগে রয়েছেন।
এই নিউজ 472 বার পড়া হয়েছে