২১শে মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ৭ই চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ, ২রা শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

ষড়যন্ত্র ও বাধা ডিঙিয়ে সফল এক নারী রেমিটেন্স যোদ্ধা রাহিমা খানমের গল্প

প্রকাশিত মার্চ ২০, ২০২৬, ০৯:১৪ পূর্বাহ্ণ
ষড়যন্ত্র ও বাধা ডিঙিয়ে সফল এক নারী রেমিটেন্স যোদ্ধা রাহিমা খানমের গল্প

স্টাফ রিপোর্টার:
কঠোর পরিশ্রম, সততা আর অদম্য ইচ্ছাশক্তি থাকলে যে কোনো প্রতিকূলতাকে জয় করা সম্ভব, তার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত প্রবাসী বাংলাদেশি রাহিমা খানম। নিউজিল্যান্ডভিত্তিক শিক্ষা ও অভিবাসন পরামর্শক প্রতিষ্ঠান ‘এআরআরকে ইন্টারন্যাশনাল কনসালটেন্ট কোং লিমিটেড’-এর সিইও হিসেবে তিনি আজ বিশ্বমঞ্চে সমাদৃত। তবে এই সাফল্যের পথটি মোটেও মসৃণ ছিল না; পদে পদে তাকে মোকাবিলা করতে হয়েছে সামাজিক কুৎসা ও আইনি ষড়যন্ত্র।
রাহিমা খানমের প্রতিষ্ঠানটি মূলত ইউকে, ইউএসএ, কানাডা, অস্ট্রেলিয়াসহ বিভিন্ন দেশে স্টুডেন্ট ভিসা, উচ্চশিক্ষা এবং ইমিগ্রেশন প্রসেসিংয়ে সহায়তা করে থাকে। দক্ষ সেবার মাধ্যমে স্বল্প সময়েই তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুনাম অর্জন করেন। কিন্তু তার এই ব্যবসায়িক উন্নতি দেখে একটি কুচক্রী মহল গত কয়েক বছর ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সাইবার বুলিং শুরু করে। শুধু তাই নয়, তাকে ও তার পরিবারকে হেনস্তা করতে সিলেটের আদালতে একাধিক মামলাও দায়ের করা হয়।
তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া শেষে সত্যের জয় হয়েছে। জানা গেছে, রাহিমা খানম ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং তারা আদালত থেকে সসম্মানে খালাস পেয়েছেন। এমনকি মামলার বাদীরা নিজ উদ্যোগেই মহামান্য আদালতে গিয়ে মামলাগুলো প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। বর্তমানে তার বা তার পরিবারের বিরুদ্ধে কোনো আইনি জটিলতা নেই।
ব্যবসায়িক সততার অনন্য এক উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন রাহিমা খানম। ২০২৪ সালে একটি বিদেশি কোম্পানি তার ২৮ জন ক্লায়েন্টের টাকা নিয়ে আত্মসাৎ করলে তিনি বিচলিত না হয়ে নিজস্ব তহবিল থেকে সেই অর্থ পরিশোধ করেন। যেখানে অনেকেই এমন পরিস্থিতিতে আত্মগোপন করেন, সেখানে তিনি সাহসিকতার সাথে ক্লায়েন্টদের পাশে দাঁড়িয়েছেন। এ কাজে তিনি সিলেটের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ, সিনিয়র সাংবাদিক ও আইনজীবীদের আইনি ও সামাজিক সহযোগিতা গ্রহণ করেন।
নিজের লড়াই সম্পর্কে রাহিমা খানম বলেন, “কর্মক্ষেত্রে আমার উন্নতি দেখে একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সাইবার বুলিং ও মামলা দিয়ে আমাকে দমিয়ে রাখতে চেয়েছিল। এমনকি আমার ছোট্ট সন্তানকেও তারা ছাড়েনি। কিন্তু আমি বিচলিত হইনি কারণ আমি সৎ ছিলাম। আল্লাহর ওপর ভরসা রেখে আমি কাজ করে গেছি। আজ বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে আমার প্রতিষ্ঠানের শাখা বিস্তৃত।”
তিনি আরও জানান, তার সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে যারা ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে। ভবিষ্যতে এ ধরনের অপপ্রচার চালানো হলে তিনি আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হবেন।
বর্তমানে রাহিমা খানম শুধু একজন সফল উদ্যোক্তাই নন, বরং অনেক সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীর উচ্চশিক্ষায় আর্থিক সহায়তা দিয়ে সমাজ বিনির্মাণেও ভূমিকা রাখছেন। তার এই জয়যাত্রা সিলেটের প্রবাসীদের জন্য এক অনুপ্রেরণার নাম।

এই নিউজ ৩১৪ বার পড়া হয়েছে