[english_date], [bangla_date], [hijri_date]

বানিজ্য মেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি

প্রকাশিত September 21, 2026, 10:19 AM
বানিজ্য মেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারের কাছে স্মারকলিপি

সিলেটে বানিজ্য মেলা বন্ধের দাবি জানিয়ে জেলা প্রশাসক ও মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের কাছে ‘ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন’ এবং সিলেটের বিভিন্ন মার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির নেতৃবৃন্দ স্মারকলিপি প্রদান করেছেন।

সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টায় সিলেটের জেলা প্রশাসকের পক্ষে স্মারকলিপিটি গ্রহণ করেন অতিরিক্তি জেলা প্রশাসক (সাবির্ক) মাসুদ রানা এবং দুপুর ১২টায় পুলিশ কমিশনারের স্মারকলিপি গ্রহণ করেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম এন্ড অপারেশন) মো: এনামুল হক।

স্মারকলিপি প্রদানকালে উপস্থিত ছিলেন, ইন্ডাস্ট্রিয়ালিস্ট অ্যান্ড বিজনেসম্যান ওয়েলফেয়ার ফাউন্ডেশন সিলেট মহানগরের সভাপতি আলীমুল এহছান চৌধুরী, সিনিয়র সহ-সভাপতি শহীদ উদ্দিন চৌধুরী সাজু, সাধারণ সম্পাদক নুরুল আলম, প্রচার সম্পাদক ও আল হামরা শপিং সিটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার তাজুল ইসলাম, আইন বিষয়ক সম্পাদক ও এলিগ্যান্ট শপিং মল ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোঃ আব্দুল কাদির, অফিস সম্পাদক এডভোকেট আফজাল হোসাইনসহ নির্বাহী কমিটির সদস্য গোলাম কিবরিয়া, শামসুর রহমান কামাল, আব্দুল গফুর, অলিউর রহমান, আশরাফ আহমেদ, আজহারউদ্দিন, সৈয়দ এডভোকেট আব্দুল হামিদ এবং সিলেটের বিভিন্ন মার্কেট কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সর্বস্তরের ব্যবসায়ীবৃন্দ।

স্মারকলিপিতে নেতৃবৃন্দ উল্লেখ করেন দীর্ঘদিন ধরে সিলেট নগরীর ব্যবসা-বাণিজ্যের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখা, ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সংরক্ষণ, বাজারের শৃঙ্খলা নিশ্চিতকরণ এবং স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আমরা নিরলসভভাবে কাজ করে আসছি।

দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিল্পায়ন, নতুন উদ্যোক্তা সৃষ্টি এবং দেশীয় পণ্য ও সেবার বাজার সম্প্রসারণে বাণিজ্যমেলার ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা দেশীয় শিল্প ও ব্যবসায়ীদের পণ্য প্রদর্শন, নতুন বাজার অনুসন্ধান এবং দেশি-বিদেশি ক্রেতাদের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগের পথ উন্মোচন করে।

তবে এর পাশাপাশি নিয়মিত ব্যবসা পরিচালনাকারী স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনা করাও অপরিহার্য। স্থানীয় স্থায়ী ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলো দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ, দোকানভাড়া, কর্মচারী বেতন, বিদ্যুৎ বিল, কর-ভ্যাট এবং ট্রেড লাইসেন্সসহ বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি ব্যয় বহন করে ব্যবসা পরিচালনা করে থাকে। কিন্তু ঘন ঘন অনিয়ন্ত্রিত স্থানীয় মেলা আয়োজন করা হলে মেলা প্রাঙ্গণে কর-ভ্যাট ও ট্রেড লাইসেন্সবিহীন অস্থায়ী স্টলে পণ্য বিক্রি করা হয়, যা স্থায়ী ব্যবসায়ীদের বিক্রয় ও আয়ের ওপর মারাত্মক বিরূপ প্রভাব ফেলে। ফলে ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভ, অসন্তোষ ও আর্থিক অনিশ্চয়তা তৈরি হচ্ছে এবং তারা অসম প্রতিযোগিতার সম্মুখীন হচ্ছেন।

সম্প্রতি সিলেট নগরী ও আশপাশের এলাকায় বিভিন্ন নামে স্থানীয় মেলা, বাণিজ্যমেলা, পণ্য প্রদর্শনী ও অস্থায়ী বাজার আয়োজনের প্রবণতা আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে ক্ষুদ্র, মাঝারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রি, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়ছে। পাশাপাশি ব্যস্ত বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকায় মেলা আয়োজনের কারণে তীব্র যানজট, অনাকাঙ্ক্ষিত জনসমাগম, শব্দদূষণ এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন চলাচলে চরম ভোগান্তির সৃষ্টি হচ্ছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মেলা পরিপত্রের ৩ (তিন)-এর ‘চ’ ধারা অনুযায়ী ঢাকা ব্যতীত দেশের ৭টি বিভাগীয় শহরে প্রতি বছর একটি সুপরিকল্পিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজনের নিয়ম রয়েছে। উক্ত পরিপত্রের আলোকে স্থানীয় চেম্বার ও ব্যবসায়িক সংগঠনগুলোর সমন্বয়ে বছরে মাত্র একটি আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজনে ব্যবসায়ীদের কোনো আপত্তি থাকবে না। যথাযথ পরিকল্পনা, আইনশৃঙ্খলা, জননিরাপত্তা ও ব্যবসায়ীদের স্বার্থ নিশ্চিত করে এই মেলা আয়োজন করা হলে দেশীয় পণ্যের মান যাচাইয়ের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং নতুন নতুন উদ্যোক্তা তৈরি হবে। কিন্তু এর বাইরে ঘন ঘন অনিয়ন্ত্রিত মেলা আয়োজনের সুযোগ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।

দাবিসমূহ, বিভাগীয় শহর হিসেবে সিলেটে বছরে মাত্র একটি নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা আয়োজনের মাধ্যমে দেশীয় শিল্প, পণ্য, সেবা ও উদ্যোক্তাদের বড় পরিসরে প্রদর্শনী ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করা। নির্ধারিত আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলা ব্যতিরেকে অন্যান্য স্থানীয় মেলা, অস্থায়ী বাণিজ্যমেলা বা পণ্য প্রদর্শনী বন্ধ রাখা এবং মেলা আয়োজনের ক্ষেত্রে একটি সুস্পষ্ট ও অভিন্ন নীতিমালা প্রণয়ন করা। ভবিষ্যতে নতুন কোনো মেলার অনুমোদন প্রদানের পূর্বে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যের উপর সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনা করা এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মেলা পরিপত্রের ২ (দুই)-এর ‘ক’ ধারা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়িক সংগঠনের মতামত গ্রহণ বাধ্যতামূলক করা। অনুমোদনহীন ও অনিয়ন্ত্রিত মেলা আয়োজনের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। নগরীর যানজট নিরসন, জননিরাপত্তা রক্ষা ও সুষ্ঠু বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখতে মেলা আয়োজনের বিষয়ে স্থায়ী নির্দেশনা জারি করা। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের ক্ষতি সাধন করে বাণিজ্যিক এলাকাগুলোতে ঘন ঘন মেলা আয়োজন বন্ধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা প্রদান করা।

পরিশেষে, আমরা বিনীতভাবে ব্যক্ত করতে চাই যে, এই আবেদন কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা নির্দিষ্ট মেলা আয়োজকের প্রতি বিদ্বেষবশত করা হয়নি। বরং স্থানীয় ব্যবসায়ী সমাজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ রক্ষা, সুশৃঙ্খল বাণিজ্যিক পরিবেশ বজায় রাখা এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সুশাসন নিশ্চিত করাই এর মূল উদ্দেশ্য। সিলেটের ব্যবসায়ী সমাজ নগরীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও রাজস্ব প্রদানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ব্যবসায়ীদের স্বার্থ সুরক্ষিত থাকলে সিলেটের বাণিজ্য ক্ষেত্র আরও গতিশীল ও সমৃদ্ধ হবে।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ অবিলম্বে এ যৌক্তিক দাবিগুলো বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসক ও পুলিশ কমিশনারসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এই নিউজ 319 বার পড়া হয়েছে