সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিউক)-এর চেয়ারম্যান (অতিরিক্ত সচিব পদমর্যাদা) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেছেন, সিলেটের পর্যটন শিল্পের বিকাশের সঙ্গে এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও কর্মসংস্থানের বিষয়টি গভীরভাবে সম্পৃক্ত। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, পাহাড়-নদী, চা-বাগান, হাওর, ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় স্থাপনাসহ সিলেটের রয়েছে বিপুল পর্যটন সম্ভাবনা। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এসব সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে পারলে সিলেটকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব। সিলেটের পর্যটন শিল্পকে এগিয়ে নিতে সিলেট উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ সব সময় পাশে থাকবে।
তিনি বলেন, পর্যটন খাতের উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, ট্যুর অপারেটর, হোটেল-মোটেল ব্যবসায়ীসহ সব অংশীজনকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। পর্যটকদের নিরাপদ ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পর্যটনকেন্দ্রগুলোর যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর উন্নয়নেও গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, পর্যটনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান ও ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব। এ ক্ষেত্রে পর্যটকদের চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে নতুন নতুন পর্যটন প্যাকেজ ও সেবা চালুর পাশাপাশি সিলেটের পর্যটন সম্ভাবনাকে দেশ-বিদেশে আরও ব্যাপকভাবে তুলে ধরতে হবে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) দুপুরে নগরীর নাইওরপুলস্থ সিউক কার্যালয়ে ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশন অব সিলেট (টোয়াস)-এর উদ্যোগে সিউক চেয়ারম্যানের সঙ্গে সদস্যদের মতবিনিময় এবং ‘অভিযাত্রী’ ম্যাগাজিনের শুভ মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এসময় উপস্থিত ছিলেন, ট্যুর অপারেটস এসোসিয়েশন অব সিলেট (টোয়াস) এর সভাপতি হুমায়ুন কবির লিটন, সহ-সভাপতি আহমদ হাসান সায়ীম, , সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম রাফি, সহ সাধারণ সম্পাদক মো: শামীম আহমদ সুমন, কোষাধ্যক্ষ শফি উদ্দিন, অর্থ সম্পাদক মুহাম্মদ শফি উদ্দিন, প্রচার সম্পাদক মো: ফয়সল আহমদ, সদস্য মো: জাম্মান আহমদ, শাহ দিদার আলম চৌধুরী নবেল, মোহাম্মদ এনামুল কবীর, মোমুনিনুল হক ফাহিম, ফজলুল হক রবিন, রিমন আহমেদ, তৌফিক রহমান রাব্বি প্রমুখ।
পর্যটন খাতের প্রচার ও প্রসারে বিশেষ ভূমিকা রাখার লক্ষ্যে এসময় সংগঠনটির ম্যাগাজিন ‘অভিযাত্রী’-র আনুষ্ঠানিক মোড়ক উন্মোচন করেন প্রধান অতিথি ও উপস্থিত অতিথিবৃন্দ।
মতবিনিময়কালে টোয়াসের সদস্যরা সিলেটের পর্যটন খাতের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। বিশেষ করে পর্যটনকেন্দ্রগুলোর অবকাঠামোগত উন্নয়ন, যোগাযোগব্যবস্থার মানোন্নয়ন, পর্যটকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধি এবং নতুন পর্যটন গন্তব্যগুলোকে কার্যকরভাবে বিকশিত করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
সিউক চেয়ারম্যান পর্যটনসংশ্লিষ্টদের বিভিন্ন প্রস্তাব ও বিষয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দেন। সিলেটের পর্যটন শিল্পকে আরও গতিশীল করতে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সমন্বয়ের ভিত্তিতে কাজ করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। টোয়াস সদস্যরা সিউক চেয়ারম্যান হওয়ায় ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান।
এই নিউজ 327 বার পড়া হয়েছে