[english_date], [bangla_date], [hijri_date]

গোলাপগঞ্জে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা না পেয়ে স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন, অপহরণের অভিযোগ

প্রকাশিত April 30, 2024, 12:26 PM
গোলাপগঞ্জে ব্যবসায়ীর কাছে চাঁদা না পেয়ে স্ত্রীকে যৌন নির্যাতন, অপহরণের অভিযোগ

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিলেটের গোলাপগঞ্জে ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদের কাছে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি, তাঁর বাড়িতে হামলা এবং স্ত্রী শিল্পী বেগমকে নির্যাতন ও অপহরণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় স্থানীয় প্রভাবশালী রাজনৈতিক ব্যক্তিদের মদদ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন ওই ব্যবসায়ী। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি।

ভুক্তভোগী সুলতান মাহমুদের ভাষ্য অনুযায়ী, শুক্রবার (১৬ এপ্রিল) রাত ১২ টার দিকে উপজেলার ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হাজিপুর লামাপাড়া গ্রামে তাঁর বাড়িতে ১০ থেকে ১২ জনের একটি দল হামলা চালায়। এ সময় তাঁর স্ত্রীকে অপহরণ করে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ করেন তিনি। পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে তাঁদের অস্ত্রের ভয় দেখানো হয় বলেও দাবি করেন সুলতান মাহমুদ। পরে চিৎকার শুনে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা অস্ত্রের কাছে জিম্মি করে পালিয়ে যায় বলে তাঁর অভিযোগ।

​ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় বাসিন্দা রুবেল আহমদ বলেন, “ঐ দিন রাতে হঠাৎ করেই চিৎকার চেচামেচি শুনে আমরা আশপাশের মানুষ বের হয়ে আসি। এসে দেখি সুলতান মাহমুদের স্ত্রীকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে যাচ্ছে সবাই ভয়ে চিৎকার করছে। হামলাকারীরা চলে যাওয়ার সময় অস্ত্রের ভয় দেখাচ্ছে,যার কারনে আমরা আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। এলাকায় এভাবে ব্যবসায়ীদের ভয়ভীতি দেখানো এবং বাড়িতে হামলা চালোনোর ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আমরা সাধারণ মানুষ হিসেবে এই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”

সুলতান মাহমুদের অভিযোগ, আশরাফ উদ্দিন, মখলেছুর রহমান, তাপশ চৌধুরীসহ কয়েকজন ব্যক্তি দীর্ঘদিন ধরে গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন বাজার ও এলাকায় ব্যবসায়ীদের কাছে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালনার কথা বলে চাঁদা দাবি করে আসছেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ব্যবসায়ীদের ওপর চাপ সৃষ্টি ও নির্যাতন করা হয় বলেও দাবি তাঁর।
তিনি জানান, ২০১৪ সালের ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আব্দুল হানিফ খানের সঙ্গে তাঁর বিরোধের সূত্রপাত হয়। ২০১৬ সালে সেই বিরোধ আরও তীব্র হয়। পরে ২০২১ সালে আব্দুল হানিফ খান চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর সহযোগীদের মাধ্যমে হুমকি ও চাঁদা দাবির ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

সুলতান মাহমুদের আরও দাবি, ২০২৩ সালে মঞ্জুর সাফি চৌধুরী এলিম উপজেলা চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর তাঁর ওপর চাপ ও হামলার ঘটনা বাড়তে থাকে। একপর্যায়ে ৫০ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় তাঁর স্ত্রীকে নির্যাতন ও অপহরণ করা হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার সময় তিনি কানাডায় অবস্থান করছিলেন বলেও জানান।

ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদ বলেন, চাঁদা দাবির বিষয়ে এর আগে দুইবার পুলিশের সহায়তা চেয়েছিলেন তিনি। তবে তাঁর অভিযোগ, রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে যথাযথ প্রতিকার পাননি। পরবর্তী সময়ে দেশে ফিরে তিনি আশরাফ উদ্দিন, মখলেছুর রহমান, তাপশ চৌধুরী, মামুন রশীদ, কেল্লা ওরফে রাহেল, নাফি, হামাদ, শহীদ, মিতু, উজ্জ্বল ও মুরাদসহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলেন।
তাঁর দাবি, এসব ঘটনায় প্রায় ২০ জন জড়িত। তাঁদের পেছনে মঞ্জুর সাফি চৌধুরী এলিম এবং ৩ নম্বর ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হানিফ খানের মদদ রয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।

সুলতান মাহমুদের ভাষ্য, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে সেটিকে মামলা হিসেবে গ্রহণ না করে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়। এ ছাড়া তাঁকে একটি মিথ্যা মামলায় আটক দেখানো হয়েছিল বলেও দাবি করেন তিনি।
এ বিষয়ে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আরিফুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।

উল্লেখ্য, শিল্পী বেগম ফুলবাড়ী ইউনিয়নের হাজিপুর গ্রামের ব্যবসায়ী সুলতান মাহমুদের স্ত্রী। অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সবার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তী সময়ে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।

এই নিউজ 323 বার পড়া হয়েছে