মৌলভীবাজারে টানা ৩ দিনের ভারী বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এতে জেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে জেলার চারটি প্রধান নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে জেলার জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, ভারী বৃষ্টি ও উজানের ঢলের কারণে জেলার নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে জুড়ী নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এছাড়া মনু ও ধলাই নদীর ছয়টি প্রতিরক্ষা বাঁধ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। উজানে আরও বৃষ্টি হলে পরিস্থিতির অবনতি হয়ে বড় ধরনের বন্যা দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, মনু, ধলাই, কুশিয়ারা ও জুড়ী নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যদিও অধিকাংশ নদীর পানি এখনো বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে, তবুও নিম্নাঞ্চলগুলোতে ইতোমধ্যে প্লাবন দেখা দিয়েছে। রাজনগর উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের পূর্ব নন্দীউড়া ও ভুজবল গ্রামে উদনা নদীসংলগ্ন এলাকাগুলো পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বসতবাড়ি ও রাস্তাঘাট ডুবে গিয়ে স্থানীয়দের দুর্ভোগ বেড়েছে।
এছাড়া কমলগঞ্জ উপজেলার মুন্সীবাজার, আদমপুর ও পতনঊষার ইউনিয়ন এবং মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর এলাকাতেও বহু ঘরবাড়ি পানির নিচে চলে গেছে। একই পরিস্থিতি দেখা গেছে কুলাউড়া ও বড়লেখা উপজেলার নিম্নাঞ্চলগুলোতে। সব মিলিয়ে জেলার প্রায় ৫ শতাধিক পরিবার পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে কুলাউড়া উপজেলায় পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে গোগালী ছড়ার প্রায় ১৫০ ফুট বাঁধ ভেঙে অন্তত ১৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে ফসল, মৎস্য খামার ও অবকাঠামোর ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার ফলে উপজেলার সদর ও জয়চণ্ডী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা পানিতে তলিয়ে যায়। প্লাবিত গ্রামের মধ্যে সদর ইউনিয়নের বাগাজুরা, হাসনপুর, শ্রীপুর, করেরগ্রাম, মিনারমহল, সৈয়দপুর, গাজিপুর, পুরন্দপুর, হরিপুর, বড়কাপন এবং জয়চণ্ডী ইউনিয়নের দানাপুর, কামারকান্দি ও লামাগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকা রয়েছে। এতে প্রায় ১০০ বিঘা আউশ ও বোরো ধানের ক্ষেত, আউশের বীজতলা এবং শতাধিক পুকুর প্লাবিত হয়ে মাছ পানিতে ভেসে গেছে।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ ছাদু মিয়া বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ও পানিবন্দি মানুষের তালিকা তৈরির জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার কারণে অনেক ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগে সমস্যা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য চাল ও নগদ সহায়তা বরাদ্দের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী খালেদ বিন ওয়ালিদ বলেন, জেলার প্রধান নদীগুলোর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বুধবার সকালে জুড়ি নদীর পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। উজানে অতিবৃষ্টি হলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।
এই নিউজ ৩০৪ বার পড়া হয়েছে